ওয়ানবাংলানিউজ: কেউ কেউ বলেন, টেরিযা মে রোবটের মতো একজন রাজীতিবিদ, যার মধ্যে উদ্দীপনা নেই। তবে তাঁর বন্ধুরা-স্বজনরা বলেন, টেরিজা মে মজা করতে জানেন, যদিও তিনি কাজের ক্ষেত্রে খুব একাগ্রচিত্ত। নারী হয়ে ১৯৯০ এর দশকে রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নেয়া সহজ কাজ ছিল না। রাজনীতি যখন পুরুষদের দখলে তখন নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সংহত করেন টেরিজা মে। যখন তিনি কনজারভেটিভ দলের চেয়ারম্যান ছিলেন তখন তিনি স্পষ্টবাদী হিসেবে পরিচিতি পান।
ডেভিড ক্যামেরন যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন হোম সেক্রেটারি ছিলেন টেরিজা মে। আধুনিক ব্রিটেনে তিনি সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হোম সেক্রেটারি ছিলেন।
ব্রিটিশ রাজনীতির অন্যতম এক উত্তাল সময় ছিল ব্রেক্সিট। তখন প্রধানমন্ত্রী হন টেরিজা মে।
কিন্তু ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হন তিনি। অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিয়ে রাজনৈতিক জোয়া খেলায় হেরে যান। এই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় কনজারভেটিভ। এরপর দলে এবং সরকারে নিজের কর্তৃত্ব ধরে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু তা ঠিকমতো করতে পারেননি। ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন বিলম্বিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে সময় চাইতে বাধ্য হন তিনি। কিন্তু ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে ব্যর্থতা সহ নানা কারণে নিজ দলের এমপিদের পক্ষ থেকে কয়েক মাস যাবত চাপে থাকার পর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন টেরিজা মে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাবেক হয়ে গেলে সাধারণত তাদের উত্তরসূরিদের সমালোচনা করেন না ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীরা। কিন্তু কোভিড লকডাউনে বরিস জনসনের আচরণ নিয়ে এই ধারাবাহিকতার ব্যত্যয় ঘটান টেরিজা মে।
২৭ বছর যাবত মেইডেনহেডে এমপি থাকার পর আগামী সাধারণ নির্বাচনে আর এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না টেরিজা মে। তবে আধুনিক দাসত্ব নিয়ে তিনি তাঁর ক্যাম্পেইন অব্যাহত রাখবেন।















