প্রবল শক্তিশালী ঝড় কিরেনের আঘাতে জার্সি দ্বীপের অনেক বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। গাছপালা উপড়ে গেছে, বাড়ির চালের টাইলস উড়ে গেছে, গাড়ি কাচ ভেঙ্গে গেছে, এমনকি বাড়ির বাগান এলোমেলো হয়ে গেছে।
বাইরে থেকে বিধ্বস্ত বাড়িগুলোকে মনে হয়, এসব বাড়িতে কেউ বসবাস করেনা। এই বিধ্বস্ত বাড়ির বাসিন্দা বব আশ্রয় নিয়েছেন তাঁর প্রতিবেশীর বাড়িতে।
পাশের বাড়ির বাসিন্দা লোরেইন নিজের বাড়ি এবং নিজের ক্ষয়ক্ষতি কেমন হয়েছে, তা জানালেন বিবিসির প্রতিবেদকে।
কয়েক রাস্তা দূরে গিয়ে দেখা যায়, অবস্থা আরও খারাপ। ঘরের চালের কয়েকটি স্লেট খুলে পড়েনি, ঘরের পুরো চাল উড়ে গেছে। এখানকার বাসিন্দারা বিশ্বাস করেন, ঝড় নয়, বরং ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে তাদের এলাকায়।
কিরেন ঝড়ে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০ মাইল। ফলে ঘরবাড়ি ছেড়ে মানুষ অন্যত্র আশ্রয় নেয়। এই বাড়ির নিজস্ব ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজে দেখা যায়, ঝড়ের আঘাতে জানালা ভেঙ্গে তীব্র বেগে বাতাস প্রবেশ করলে এই মা তাঁর নবজাতককে রক্ষা করতে লাফিয়ে ওঠেন বিছানা থেকে।
জার্সি দ্বীপের আরেক বাসিন্দা মেগস তাঁর ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতেই অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইংল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে ইংলিশ চ্যানেলের উপকূলে প্রায় সব অঞ্চলই কিরেন ঝড়ের আঘাত অনুভব করেছে। এটি ক্রমওয়েলের দৃশ্য। তীব্র বাতাসে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় ঢেউ। এখানে ঘণ্টায় ৮০ মাইল বেগে আঘাত হানে বাতাস। ডেভন অঞ্চলে রাত থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তীব্র ছিল বায়ু প্রবাহ। সোলকাম্ব এলাকার এই হোটেলে জলোচ্ছ্বাসের পানিতে ডুবে যায়।
আয়েল অফ ওয়াটও কিরেন ঝড়ের আঘাত থেকে মুক্তি পায়নি। হ্যাম্পশায়ারের মতো এখানে কয়েক সপ্তাহ যাবত বন্যা পরিস্থিতি চলছে। এর সাথে ব্যাপক ঝড়ের কারণে সৃষ্টি হয়েছে নতুন ধ্বংসযজ্ঞ। ওয়েমাউথের কাছে ফ্রেশ ওয়াটার হলিডে পার্কের এই ছবিগুলোতে দেখা যায়, সাগর পাড়ে হলিডে করার অস্থায়ী ঘরগুলো বাতাস আর জলোচ্ছ্বাসের পানিতে কীভাবে এলোমেলো হয়ে গেছে। এসব ঘর থেকে বেশ কয়েকটি পরিবারকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে আনতে হয়।
নিউ ফরেস্ট টু হরশামে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়া থেকে শুরু করে সাসেক্স ও কেন্ট অঞ্চলের ছয় হাজার ঘর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ঝড় কিরেনের আঘাতে। দেশের দক্ষিণ উপকূলের কয়েক শ মাইল এলাকাজুড়ে ধ্বংসের চিহ্ন রেখে গেলো এই ঝড়। ঝড় চলে গেলেও ঝড়ের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সময় লেগে যাবে আরও অনেক।















