আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সোভিয়েত রাশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা তথা বিশ্বখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ লেনিনের মরদেহ চুরির চেষ্টা করা হয়েছে। ১৯২৪ সালে মৃত্যুর পর থেকে মস্কোর রেড স্কোয়ারের এক সমাধি সৌধে এই প্রবাদপ্রতীম বিশ্বনেতার মরদেহ মমিকৃত অবস্থায় রাখা হয়েছে। সমাধি সৌধে রয়েছে কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা। তবে কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেই গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে লেনিনের মরদেহ চুরির চেষ্টাকালে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মস্কো পুলিশ।
১৯২৪ সালে মারা যান লেনিন। তারপর কয়েক বছর, রেড স্কোয়ারে একটি কাঠের তৈরি সমাধি ক্ষেত্রে মমিকৃত অবস্থায় রাখা ছিল তার দেহ। ১৯৩০ সালে একটি স্থায়ী সমাধি সৌধ তৈরি করে সেখানে স্থানান্তরিত করা হয়। সেই থেকে সেখানেই রয়েছে সাবেক রুশ প্রেসিডেন্টের দেহ। বহু মানুষ প্রতিদিন সেই সমাধি সৌধ পরিদর্শনে যান।
মস্কো পুলিশের এক মুখপাত্র বলেছেন, ভ্লাদিমির লেনিনের মৃতদেহ যেখানে রয়েছে সেখানে নিরাপত্তা লঙ্ঘন করে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করার সময় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে জানা যায়, লোকটি মদ্যপ অবস্থায় ছিল। গ্রেপ্তারের পর সে জেরা এড়িয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করেছিল।
মুখপাত্র বলেন, ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বেশ কিছুক্ষণ ধরে সমাধি সৌধে ঢোকার সুযোগ খুঁজছিল। অবশেষে সৌধের প্রধান দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। তার আগেই সশস্ত্র পুলিশ তাকে আটক করে এবং সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। তবে ঠিক কী কারণে লেনিনের মরদেহ চুরি করতে চেয়েছিল, তার কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেনি সেই রুশ নাগরিক। তবে তার উদ্দেশ্য পরিষ্কার ছিল। সে লেনিনের মৃতদেহ চুরি করতে চেয়েছিল।
উল্লেখ্য, লেনিনকে বিংশ শতকের অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বব্যাপী লেনিন একজন বিতর্কিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিগণিত। তার সমর্থকেরা তাকে গণমানুষের অধিকার আদায়ে যোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করে। অপরদিকে তার বিরুদ্ধবাদীরা তাকে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তনকারী এবং গৃহযুদ্ধের প্রশ্রয়দাতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী বলে আখ্যায়িত করে।
সূত্র: ডেইলি স্টার.ইউকে















