যুক্তরাষ্ট্রে তুষার ঝড় ও ঠাণ্ডায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ জনে

63

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গোটা উত্তর আমেরিকা মহাদেশ জুড়ে ভয়ংকর তুষার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এতে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই অন্তত ৬৫ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে নিউইয়র্ক রাজ্যে মারা গেছেন ২৮ জন। এছাড়া মহাদেশটির হাজার হাজার মানুষকে এখন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় বাস করতে হচ্ছে। তুষার ঝড়ের কারনে দেয়া জরুরি অবস্থার মধ্যে শুরু হয়েছে লুটপাটও। বেশ কয়েকটি স্থান থেকেই একাধিক লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে।

বিবিসি জানিয়েছে, নিউ ইয়র্ক রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বাফেলোতে গাড়ী চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে মিলিটারি পুলিশ আনা হয়েছে। এই শহরের অবস্থা সবথেকে খারাপ। এর আগে নিউইয়র্ক রাজ্যের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অনেক মানুষ দু’দিনের বেশি সময় ধরে তাদের গাড়িতেই আটকে পড়েছিলেন। আবহাওয়াবিদরা পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, নিউ ইয়র্কে আরও প্রায় নয় ইঞ্চি তুষারপাত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিউ ইয়র্ক রাজ্যকে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সহায়তা দেয়ার জন্য একটি জরুরি ঘোষণা অনুমোদন করেছেন। এই টুইট বার্তায় তিনি বলেন, যারা এই ছুটির মধ্যে প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার সমবেদনা।

নিউ ইয়র্ক রাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হচুল এই ঝড়কে এই শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়ংকর তুষার ঝড় বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এখানকার অবস্থা এখন যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। রাস্তার ধারে যত গাড়ি আটকে পড়েছে, তা দেখলে আঁতকে উঠতে হয়। অনেক জরুরি সেবা সংস্থার গাড়ি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে পারেনি। অনেকে নিজেরাই তুষারের মধ্যে আটকে পড়েছে।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, তুষার গলে যখন আটকে পড়া গাড়িগুলো বেরিয়ে এলে আরও অনেক মানুষকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যাবে। উত্তর আমেরিকার এবারের এই তুষার ঝড়কে সাইক্লোন বোমা বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। যখন বায়ুমণ্ডলের চাপ হঠাৎ কমে যায়, তখন ভারী তুষারপাতের সঙ্গে তীব্র ঝড়ো বাতাস শুরু হয়। এটিকেই সাইক্লোন বোমা বলে বর্ণনা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যাতায়ত মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী কয়েকদিনে অবস্থা একটু ভালো হবে। তবে তারপরও লোকজনকে এই পরিস্থিতিতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহান্তে প্রায় আড়াই লাখ বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। ঝড়ে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট, ওহাইও, মিসৌরি, উইসকনসিন, কানসাস এবং কলোরাডো থেকেও। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মন্টানায় সবচেয়ে তীব্র শীত পড়ে। সেখানে তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল হিমাংকের ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নীচে।