ইউক্রেনের তিন অঞ্চলে গণভোটের ঘোষণা

156

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে গণভোটের ঘোষণা দিয়েছে ইউক্রেনের তিন অঞ্চল। মূলত এসব অঞ্চলে থাকা রুশপন্থী প্রশাসনই এই আয়োজনে উঠে পড়ে লেগেছে। বহুদিন ধরেই তোরজোড় চললেও মঙ্গলবার তারিখ ঘোষণা করেছে খেরসন, দনেতস্ক এবং লুহানস্ক। আগামি ২৩ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই গণভোট আয়োজিত হবে। এতে বাসিন্দাদের কাছে প্রশ্ন তুলে দেয়া হবে যে, তারা রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে চায় কি না। বেশিরভাগ মানুষ রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে ভোট দিলে এসব অঞ্চলকে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হবে।

এরইমধ্যে রাশিয়ার তরফ থেকেও ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে। রুশ পার্লামেন্টের স্পিকার বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে যদি ডনবাসের জনগণ ভোট দেন, তবে তিনি তাতে সমর্থন করবেন। রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে গণভোট হবে কি না, এ সিদ্ধান্ত ওই অঞ্চলের লোকজনের। এর আগে গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরুর আগেই দনেতস্ক পিপলস রিপাবলিক (ডিপিআর) ও লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক (এলপিআর) নামে দুটি অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এখন সেই কথিত স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোই গণভোট আয়োজন করছে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে।

লুহানস্কের প্রধান লিওনিদ প্যাসেচিঙ্ক প্রথম এই গণভোট আয়োজনের লক্ষ্যে আইনে স্বাক্ষর করেন।
পুতিন যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ইউক্রেনের বিশাল এলাকা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যাবেন তিনি। এর আগে গত মার্চ মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সতর্ক করে বলেন, পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি সংঘাতের অর্থ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। বাইডেন ও ন্যাটো নেতৃত্ব এর আগে বলেছেন, তারা সরাসরি রাশিয়ার সেনাদের সঙ্গে লড়াইয়ে জড়াতে চান না। তবে পুতিন ও রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অভিযোগ করে আসছেন, পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনে ছায়াযুদ্ধ করছে। তারা ইউক্রেনকে অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এদিকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তাদের ভূখণ্ড থেকে রাশিয়ার সব সেনা না সরে যাওয়া পর্যন্ত তারা লড়াই চালিয়ে যাবে। তাদের অঞ্চলে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ কখনোই মেনে নেবে না। রাশিয়ার সেনাদের রুখতে পশ্চিমাদের কাছে আরও উন্নত অস্ত্র চেয়েছে কিয়েভ।

তবে শেষ পর্যন্ত ডনবাসকে নিজের অংশে পরিণত করলে এ যুদ্ধের মোড় ঘুরে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এ নিয়ে পুতিনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দনেতস্কের প্রধান পুশিলিন বলেন, ডনবাসের মানুষ বহুদিন ধরে নিপীড়নের মধ্যে আছে। এখন একটি মহান রাষ্ট্রের অংশ হওয়া তাদের প্রাপ্য। রাশিয়াকে ডনবাসের মানুষ সবসময় নিজেদের মাতৃভূমি ভেবে এসেছে। এদিকে লুহানস্কের সিভিক চেম্বারের ডেপুটি প্রধান লিনা ভকালোভা বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিয়েভের জাতীয়তাবাদীরা সব ধরণের রেড লাইন অতিক্রম করেছে। কিন্তু ডনবাসের মানুষ ২০১৪ সালেই তাদের ভাগ্য ঠিক করে ফেলেছেন। এতদিন ধরে আমরা রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি।