ব্রিটেনে অবৈধভাবে প্রবেশ করলে পাঠানো হবে আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডায়

526

ওয়ানবাংলানিউজ: ব্রিটেনে অবৈধভাবে প্রবেশ করা কিছু মানুষকে রুয়ান্ডা পাঠিয়ে দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ব্রিটিশ জনগণের সহানুভূতি অসীম হলেও মানুষকে সহায়তা দেয়ার ক্ষমতা অসীম নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অবৈধভাবে ব্রিটেনে আসা যেসব লোককে ব্রিটেনে রাখা সম্ভব হবেনা, তাদেরকে পাঠিয়ে দেয়া হবে চার হাজার মাইল দূরে পূর্ব আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডায়। ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ব্রিটেনে অবৈধভাবে প্রবেশ করার প্রবণতাকে বাধাগ্রস্ত করতে ব্রিটিশ সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে সমালোচকেরা সরকারের এই উদ্যোগকে ‘নিষ্ঠুর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালেও ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা আসেন ব্রিটেনে। তাদেরকে উদ্ধার করে আনেন ব্রিটিশ উদ্ধারকারী দল। বিপদজনক এই যাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে সরকার। ব্রিটিশ সরকারের মন্ত্রীরা এখন এই সমস্যার সমাধান খুঁজে পেয়েছেন ৪ হাজার মাইল দূরের দেশ রুয়ান্ডায়। বৃহস্পতিবার রুয়ান্ডা সফরে যান হোম সেক্রেটারি প্রীতি প্যাটেল। ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ব্রিটেনে প্রবেশকারী অনেককে ব্রিটিশ সরকার এই দেশে পাঠাতে চায়। মূলত একা থাকা পুরুষদেরকে সেখানে পাঠানো হবে। এখানেই তাঁরা রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে কাজও করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বৃহস্পতিবার কেন্টে এসে সরকারের নতুন এই পাইলট স্কিমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে ইমিগ্রেশনে সরকারের নিয়ন্ত্রণ ফিরে আসবে বলে ধারনা করছে বরিস জনসনের প্রশাসন।

শরণার্থী পুনর্বাসন সহ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিরাপদ এবং বৈধভাবে বসবাসে সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, এই ধরনের প্রকল্প নিষ্ঠুর এবং বাস্তবায়নযোগ্য নয়।

গত চার বছরে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়া মানুষের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ২০১৮ সালে পুরো এক বছরে যেখানে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২৯৭ জন, ২০২১ সালে এসে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২৮ হাজার ৫২৬ জনে। চলতি বছরে ইতোমধ্যে সাড়ে চার হাজারের বেশী মানুষ এসে গেছে। বছরের বাকি সময়ে এই সংখ্যায় নতুন রেকর্ড হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

রুয়ান্ডার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও স্বীকার করেছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হবে এবং এই সিদ্ধান্ত রাতারাতি বাস্তবায়ন করা যাবেনা। কিন্তু ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে অবৈধভাবে মাইগ্রেনদের আগমন ঠেকাতে মরিয়া সরকারের মন্ত্রীরা মনে করেন, তাদের হাতে বিকল্প উপায় খুব বেশী নেই। রুয়ান্ডার স্কিম বাস্তবায়ন করতে পারলে মানবপাচারকারিদের বিজনেস মডেলকে ভেঙ্গে দেয়া সম্ভব বলে মনে করছে সরকার।