ওয়ানবাংলানিউজ: গ্রীষ্ম মৌসুমে ব্রিটেনের রেস্টুরেন্ট, বার এবং ক্যাটারিং সার্ভিসগুলো ব্যস্ত সময় পার করে। সামারকে সামনে রেখে দক্ষ শেফ পাচ্ছেনা রেস্টুরেন্টগুলো। মহামারিতে রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ থাকায় অন্য ধরনের পেশায় চলে যান ক্যাটারিং সেক্টরের অনেকে। ফলে কর্মী কর্মী সংকট সৃষ্টি হয়েছে এই সেক্টরে।
সাফোকের রেস্টুরেন্ট মালিক জর্ডান। তিনি ম্যাট নামের এই তরুণকে সেফের কাজ শিখিয়ে তৈরি করে নিচ্ছেন। ম্যাটেরও এই পেশায় আগ্রহ আছে। কিন্তু পেশাদার শেফ হওয়ার ইচ্ছা আছে, এমন লোকের অভাব আছে।
ট্রিওজ নামের এই রেস্টুরেন্টে আসন্ন সামারে ৩০টি বিবাহ অনুষ্ঠানের বুকিং ইতোমধ্যে চলে এসেছে। তাই তাদের আরও দুজন প্রধান শেফ প্রয়োজন। কিন্তু মহামারি আর ব্রেক্সিটের কারণে অনেকে এই কাজে আসতে উৎসাহী ছিলেন না।
রেস্টুরেন্টটি দেখতে সুন্দর। কিন্তু ট্রিওজ রেস্টুরেন্টের মালিক নাটালি যখন নতুন একজন শেফ নিয়োগ দেন, সেই সেফকে ১৫ হাজার পাউন্ড বেশী বেতন দিয়ে তাঁর আগের প্রতিষ্ঠান রেখে দেয়।
হসপিটালিটি সেক্টরে এই মুহূর্তে চার লাখের বেশী চাকুরীর পদ শূন্য। মহামারির আগে এই শূন্য পদের সংখ্যা ছিল দুই লাখের মতো। নরউইচ সিটি ফুটবল ক্লাবের মতো বড় ভেনুও প্রয়োজনীয় সংখ্যক শেফ পাচ্ছেনা। তাদের দশ জন শেফ আছে; প্রয়োজন আরও দশ জন।
কাছেই আরেকটি রেস্টুরেন্ট; নাম বেনেডিকটস রেস্টুরেন্ট। এই রেস্টুরেন্টের মালিক রিচারড রেস্টুরেন্টের কাজের সময়সূচী কমিয়ে এনেছেন, যাতে তাঁর কর্মীরা পেশাগত জীবন এবং পারিবারিক জীবনে নিজেদের জন্য সময় বের করে নিতে পারেন। কিন্তু রেস্টুরেন্টগুলোকে টিকে থাকতে হলে কাস্টমারদেরও কিছু দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে মনে করেন রিচারড।
ইউকে হসপিটালিটি নামে একটি সংগঠন আতিথেয়তা শিল্পে কর্মীদের আকৃষ্ট করতে দেশব্যাপী নতুন একটি ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। কিন্তু এই সেক্টরে কাজের সময়সূচী এবং মজুরির চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে কিভাবে তাঁরা নতুন লোক আকৃষ্ট করবেন?
রেস্টুরেন্ট সেক্টরের জন্য আসন্ন সামার অনেক কঠিন একটা সময় হবে। কারণ রেস্টুরেন্টের কাঁচামাল এবং জ্বালানীর দাম বৃদ্ধির কারণে মেন্যুতেও দাম বাড়াতে হবে। একদিকে ভালো কর্মী ধরে রেখে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেয়া এবং অন্যদিকে মূল্য বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ নিয়ে টিকে থাকার লড়াই করতে হবে রেস্টুরেন্টগুলোকে।















