লিভিং কষ্ট নিয়ে নাকাল লন্ডনবাসী

504

ওয়ানবাংলানিউজ: লন্ডনের অন্য সব ফুড ব্যাঙ্কের মতোই স্ট্রীথামের এই ফুড ব্যাংকটিও ব্যাস্ত সময় পার করছে। লেম্বেথ কাউন্সিল এলাকায় তাদের চারটি শাখা থেকে স্থানীয় জনগণের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া হয়। এখানে গল্প করে একাকীত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ারও আয়োজন রাখা হয়েছে। কেননা, ঘর থেকে বেরুলেই খরচ হয়, তাই খরচ বাঁচাতে গিয়ে অনেকে বাসা-বাড়িতে একাকী সময় কাটাচ্ছেন। সিঙ্গেল প্যারেন্ট এবং বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে যাদের বাসায় একা সময় কাটাতে হয়, তারা এখানে এসে চা-কফি খেয়ে গল্প করে সময় কাটাতে পারেন।

এখানে যারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন, তারাও এখানে কাজ করে জীবনের স্বার্থকতা খুঁজে পান। প্রতি সপ্তাহে ফুড ব্যাঙ্কের কাজে সাহায্য করতে আসেন বারবারা।

বিবিসি যেদিন এই ফুড ব্যাংকের ওপর প্রতিবেদন করতে যায়, সেদিন সেখানে যথেষ্ট সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন না। তাই বিবিসির প্রতিবেদকও খাবার সরবরাহ করে দিতে সাহায্য করেন। হোম ডেলিভারি পাওয়ার মধ্য দিয়ে এই এলাকার অনেক বাসিন্দা টিকে আছেন। কিন্তু যারা একাকী জীবনযাপন করেন, তাদেরকে খাবার ডেলিভারি দেয়ার সাথে সাথে সঙ্গ দেয়াও গুরুত্বপূর্ণ। মহামারির আগে স্থানীয় লোকেরা ফুড ব্যাংকে নিজেরা এসেই খাবার সংগ্রহ করতেন এবং তখন সামাজিক যোগাযোগটাও হয়ে যেতো। মহামারির স্বাস্থ্যবিধি প্রত্যাহার হয়ে গেলেও অনেক মানুষকে এখনও বাসায়ই থাকতে হয় এবং তাঁরা এখনও হোম ডেলিভারির ওপরই নির্ভরশীল।

স্থানীয় একটি কেন্দ্রে এসে বিনা মূল্যের খাদ্য সংগ্রহ করার সুযোগও আছে। এখানে স্থানীয় বাসিন্দারা বেনিফিট সংক্রান্ত উপদেশ, নানা ধরনের বিল পরিশোধ সংক্রান্ত পরামর্শ এবং চাকুরী খুঁজতে সিভি তৈরির কাজেও সহায়তা পান।

চার্চ থেকে খাদ্য সরবরাহের যে ব্যবস্থাটি আছে, সেখান থেকে সহায়তার আওতা বাড়ানো হয়েছে। এখান থেকে এখন পরিধেয় বস্ত্র, সবজি, এমনকি রিসাইকেল করা ফোন এবং কম্পিউটারও দেয়া হয়। শীতের এই মৌসুমে অনেকে হট-ওয়াটার বটলও খুঁজেন।

এসব ফুড ব্যাংক যারা পরিচালনা করেন, তাঁরা সবাই আশা করেন, এমন দিন আসুক যাতে ফুড ব্যাঙ্কের প্রয়োজন না হয়। কিন্তু উপার্জন এবং ব্যয়ের মধ্যে ব্যপক ভারসাম্যহীনতার এই সময়ে আপাততঃ ফুড ব্যাঙ্কগুলোর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।