ইউক্রেইনের পশ্চিমাঞ্চলে হামলা শুরু রাশিয়ার, ভলনোভাখা ‘দখলে’

329

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেইনে ‘সর্বাত্মক হামলার’ তৃতীয় সপ্তাহে এসে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমাঞ্চলীয় বেশ কয়েকটি শহরে একযোগে হামলা শুরু করেছে রাশিয়া।
শুক্রবার তাদের ক্ষেপণাস্ত্র লুটস্ক ও ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্ক শহরের বিভিন্ন বিমানঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

রুশ বাহিনী প্রথমবারের মতো ইউক্রেইনের মধ্যপশ্চিমাঞ্চলীয় কেন্দ্র নিপ্রোতেও গোলাবর্ষণ শুরু করেছে।

মস্কো সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অবরুদ্ধ বন্দরনগরী মারিওপোলের উত্তরে অবস্থিত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর ভলনোবাখার দখলে নিয়েছে বলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রিয়া।

রাশিয়া ইউক্রেইনে হামলা শুরুর পর যেসব শহরে টানা গোলাবর্ষণ করে যাচ্ছে সেখানকার বাসিন্দারা শহরগুলো ছেড়ে তুলনামূলক নিরাপদ মনে হওয়া পশ্চিমের শহরগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছিল; লাখ লাখ মানুষ বড় বেসামরিক কেন্দ্র লিভভে এবং পরে সেখান থেকে অন্য দেশেও গেছে। শুক্রবার রুশ বাহিনী যেসব শহরে হামলা করেছে সেগুলো লিভভের নিকটবর্তী।

শুক্রবার লুটস্কে রাশিয়ার হামলায় ২ ইউক্রেইনীয় সৈন্য নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের প্রধান ইউরি পহুলিয়াকো।

ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্কের মেয়রও শুক্রবার ইউক্রেইনের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় শহরটিতে রুশ গোলা পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এক ফেইসবুক বার্তায় তিনি লিখেছেন, “শত্রুরা ফ্রাঙ্কিভস্কে আঘাত হেনেছে।”

শহরের বাসিন্দাদের বিস্ফোরণের ছবি ও ভিডিও শেয়ার না দিতে অনুরোধ করার পাশাপাশি তিনি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার সতর্ক সংকেত ব্যবস্থাপনা কাজ করেনি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

মেয়র কয়েকটি জেলার বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের না হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন।

“নিজের নিরাপত্তার জন্য ঘরেই থাকুন। বিপদ পেরিয়ে গেলে আমি জানাবো,” বলেছেন তিনি।

বিবিসি জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে রুশ বাহিনী উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় লুটস্কে একটি বিমানঘাঁটি ও জেট ইঞ্জিন ফ্যাক্টরি লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

নিপ্রোতে বিমান হামলায় একজন নিহত এবং ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্কে বিস্ফোরণের খবরও পাওয়া গেছে।

এদিকে ইউক্রেইনের উত্তরের শহর চেরনিহিভে রাতভর রুশ বিমান হামলায় শহরটির পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেইন রাসায়নিক অস্ত্র বা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করছে বলে মস্কোর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। রাশিয়া যদি এ ধরনের কোনো অস্ত্র ইউক্রেইনে ব্যবহার করে সেক্ষেত্রে মস্কোকে পাল্টা ‘ভয়াবহ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে’ বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

ইউক্রেইনে যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় রাসায়নিক অস্ত্রের স্থাপনা আছে, রাশিয়ার এ অভিযোগকে ‘অজুহাত’ অ্যাখ্যা দিয়েছে ওয়াশিংটন। রাশিয়া সম্ভবত এ ধরনের কোনো হামলা চালানোর পরিকল্পনায় এ অজুহাত দিচ্ছে, বলেছে তারা।

রাশিয়া তাদের অভিযোগগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকতে অনুরোধ করেছে। শুক্রবার দিনের পরের দিকে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।