আওয়ামী লীগের ফাঁদে জনগণ পা দেবে না: ফখরুল

479

ঢাকা সংবাদদাতা: আওয়ামী লীগের ফাঁদে জনগণ আর পা দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপির স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন রচনা প্রতিযোগিতা কমিটির উদ্যোগে জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নাম ঘোষণা উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, এরা (সরকার) গণতন্ত্রকে ধবংস করেছে, নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধবংস করে দিয়েছে। খুব কথা বলতে শুরু করেছে কয়েকদিন আগে আমরা সার্চ কমিটিতে নাম দেইনি কেনো? এটা তো আপনার ফ্রাস্ট শুধু না, এটা একটা জনগণের সাথে চরম প্রতারণা। আমরা বিগত নির্বাচনগুলোতে দেখেছি একইভাবে যে তারা তাদের ক্ষমতাকে ধরে রাখার জন্য তাদের সমস্ত নিজেদের লোকজনকে দিয়ে তৈরি করে এই নির্বাচন কমিশন। তারা যেটা নির্বাচন করে ওইটাকে বলে আমরাই তো জিতে গেছি, আমরাই এসেছি এখানে গণতন্ত্র পার হয়েছে।

দেশের জনগণ আর সেই ফাঁদে পা দেবে না মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, এদেশের জনগণ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবার আওয়ামী লীগের যত পরিকল্পনা আছে সবকে তারা ধ্বংস করে দেবে, নষ্ট করে দেবে। অতীতের যে ঐতিহ্যে সেই ঐতিহ্য নিয়েই তারা আজকে রুখে দাঁড়াবে, অবশ্যই উঠে দাঁড়াবে।

দেশে লুটপাটের অর্থনীতি চালু করেছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকেই পত্রিকায় এসেছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সূচক কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এরা সারাক্ষণ চিৎকার করছে উন্নয়ন উন্নয়ন উন্নয়ন। মনে হয় যে, গোটা বাংলাদেশকে তারা সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দিয়েছে। হ্যারিটেজ ফাউন্ডেশন আন্তর্জাতিক সংস্থা আছে তারা এই বিষয়ে যে জরিপ করেছে সেখানে তারা বলেছে যে, এখন ১৭৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা হচ্ছে ১৩৭তম স্থানে। ২০২১ সালে ছিলো ১২০তম। অর্থাত ১৭ ধাপ নিচে নেমে গেছে। এই যে সূচক নিচে নামছে এটা ক্রমান্বয়ে নামছে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতা ১২ স্তরে ১২টি বিষয়ে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এই প্রতিযোগিতায় ৪১৯ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়। তাদের মধ্য থেকে জাতীয় পর্যায়ে ১৭ জন এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ৭৯ জন বিজয়ী হয়।

রচনা প্রতিযোগিতা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্বাধীনতা সুর্বণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আবদুস সালাম বক্তব্য রাখেন।

এছাড়াও অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, অধ্যাপক লুতফর রহমান, অধ্যাপক এমতাজ হোসেন, অধ্যাপক শামসুল আলম, অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান খান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আকরামুল হাসান, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের এবিএম আবদুস সাত্তার, রিয়াজউদ্দিন নসু, শায়রুল কবির খান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।