ওয়ানবাংলানিউজ: লন্ডন মেয়র সাদিক খান বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় লন্ডনের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে, যেসব গাড়ি পরিবেশ-বান্ধব নয়, সেগুলোর ওপর দৈনিক সর্বোচ্চ দুই পাউন্ড ফি ধার্য করতে হবে।
জনগণকে গণপরিবহন ব্যবহার করা, হাঁটার অভ্যাস করা, সাইকেল চালানো কিংবা বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে লন্ডনের রাস্তা ব্যবহারের ওপর নতুন এই প্রস্তাব দিয়েছেন লন্ডন মেয়র সাদিক খান।
কেবল দৈনিক দুই পাউন্ড চার্জ নয়, ভবিষ্যতে লন্ডনের অভ্যন্তরে গাড়ি চালালে মাইল-প্রতি চার্জ করার পরিকল্পনা আছে বলেও জানিয়েছেন মেয়র সাদিক খান।
এদিকে প্রস্তাবিত ‘গ্রেইটার লন্ডন বাউনডারি চার্জ’ সরকারের অনুমোদন না পেলেও সাদিক খান জানিয়েছেন, তিনি এখনও পরিকল্পনাটি বিবেচনায় রেখেছেন।
কারেন মেইনটেনেন্স কোম্পানির সাথে যুক্ত আছেন। নতুন একটি ভ্যান কেনার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। কিন্তু নতুন চার্জের কথা শুনে সেই চিন্তা বাদ দিয়েছেন।
যানবাহনসংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী কোম্পানি আরএসি লন্ডন মেয়রের প্রস্তাবকে “অধিকাংশ মানুষের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল’’ হবে উল্লেখ করে বলেছে, পরিকল্পনাটি একেবারেই সময়োপযোগী নয়।
লন্ডন মেয়র অফিসের উদ্যোগে পরিচালিত এক গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ লন্ডনের পরিবেশ দোষণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হলে লন্ডনে যানবাহনের চলাচল ২৭ শতাংশ কমাতে হবে।
লন্ডন মেয়র অফিসের গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব পড়ছে লন্ডনের ওপরও। চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার কারণে গেলো গ্রীষ্ম মৌসুমে লন্ডনের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক বন্যা হয়। এর ফলে তখন কিছু হাসপাতাল বন্ধ করতে হয়; টিউব স্টেশনগুলো আক্রান্ত হয় বন্যায়; এছাড়া অনেক বাড়ি-ঘর এবং ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে যায়। তাপপ্রবাহের অভিজ্ঞতাও হয়েছে লন্ডনের বাসিন্দাদের।
মেয়র সাদিক খান বলছেন, কার্বন নিঃসরণ কমাতে সম্ভাব্য নানা পদক্ষেপ নিয়ে জনগণের মধ্যে আলোচনা শুরু করতেই তিনি এসব প্রস্তাব দিয়েছেন। কিছুই এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে এসব প্রস্তাবের কোনোটিই বাস্তবায়ন করা সহজ হবেনা।















