দ্বিতীয় বিয়ে ঠেকাতে ঘুমন্ত বাবাকে গলা কেটে হত্যা

105

ঢাকা সংবাদদাতা: দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাওয়ায় রাজশাহীতে ঘুমন্ত অবস্থায় বাবাকে গলা কেটে হত্যার পর টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে লাশ গুমের অভিযোগ পাওয়া গেছে ছেলের বিরুদ্ধে।

রাজশাহীর দামকুড়া থানার বিন্দারামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার ভোরে পুলিশ নিহত সাজ্জাদ হোসেনের (৬৫) লাশ উদ্ধার করেন।

পুলিশ জানায়, নিহতের ছেলে রাসেল আলী স্বপন (৩২) গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তার বাবার ঘরে ঢুকে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে লাশ গুম করতে পায়খানার সেপটিক ট্যাংকে বাবার লাশটি ফেলে দেন। পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে সাজ্জাদের লাশ উদ্ধারের পর স্বপনকে আটক করেন।

আরএমপির দামকুড়া থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে সাজ্জাদ হোসেন নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় নিখোঁজ সাজ্জাদের ভাই সাজদার রহমান হাদী আরএমপির দামকুড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডির সূত্র ধরে পুলিশ সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে রাসেল আলী স্বপনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এর পর স্বপন পুলিশকে স্বীকারোক্তি দেন যে, সে তার বাবা সাজ্জাদ হোসেনকে গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রথমে বাবাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে পরে গলা কেটে হত্যা করেন। হত্যার পর বাবা সাজ্জাদ হোসেনের লাশ বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে গুম করেন।

স্বপন পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানান, এক বছর আগে তার মা মারা যান। এর পর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করার কথা বলে আসছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় মেয়ে দেখছিলেন। দ্বিতীয় বিয়ে করলে তাদের সম্পত্তি ভাগ হয়ে যাবে— এ আশঙ্কা থেকে স্বপন তার বাবা সাজ্জাদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে ঘরে ঢুকে তিনি ঘুমন্ত বাবাকে হত্যা করেন।

ওসি জানান, নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত সাজ্জাদের ভাই সাজদার রহমান হাদী বাদী হয়ে হত্যা মামলার জন্য থানায় এজাহার দেন। বৃহস্পতিবার দিনের ভেতরেই হত্যা মামলা রেকর্ড হবে বলে জানিয়েছেন ওসি মাহবুব আলম।