বেলারুশ-পোল্যান্ড সীমান্ত সংকট: সিরিয়ান অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার

185

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বেলারুশ-পোল্যান্ড সীমান্তে এক সিরিয়ান অভিবাসীর মরদেহ পাওয়া গেছে। পোল্যান্ডের পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্তের কাছেই এক বনের মধ্যে তারা মরদেহটি দেখতে পায়। এ নিয়ে টুইটারে একটি পোস্ট করেছে পোল্যান্ডের পুলিশ। গত কয়েক দিন ধরেই দুই দেশের সীমান্তে চলছে চরম অভিবাসী সংকট। পোল্যান্ড অভিযোগ করছে, বেলারুশ তাদের দেশে শরনার্থীদের ঠেলে দিচ্ছে। এটিকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসাবে আখ্যায়িত করেছে দেশটি। শত শত অভিবাসী গত কদিন ধরে সীমান্তে অস্থায়ী তাবু বানিয়ে অবস্থান করছেন। এরমধ্যে এই সিরিয়ান তরুণের পরিণতি হচ্ছে এ সংকটের সর্বশেষ মৃত্যু।

এ নিয়ে এ সীমান্তে অভিবাসীর মৃত্যুর সংখ্যা ৯ ছাড়িয়েছে।
আল-জাজিরার খবরে জানানো হয়েছে, বেলারুশ সরকার গত কয়েক মাস ধরেই ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ পোল্যান্ড, লিথুনিয়া ও লাটভিয়াতে অভিবাসীদের ঠেলে দিচ্ছে। ফলে এই তিন দেশই সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে এবং অভিবাসীদের ঠেকাতে নানা রকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। কিন্তু গত এক সপ্তাহে অবস্থা গুরুতর হয়ে উঠতে শুরু করে। অভিবাসীদের একটি বড় অংশই আসেন সিরিয়া, ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। অঞ্চলটি সহিংসতা প্রবণ হওয়ায় মানুষ স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে ইউরোপে পাড়ি জমাতে চায়। বর্তমানে প্রায় ৪০০০ অভিবাসী পোল্যান্ড সীমান্তে অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
২০১৫ সালে ইউরোপে অভিবাসীদের ঢল নামলে দেশগুলো তাদের সীমান্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। তারপরেও প্রতি বছর লাখো অভিবাসী স্থল ও সমুদ্রপথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ যাত্রাপথেই বড় একটি অংশের মৃত্যু হয়। স্থলপথে যারা যান তারা পূর্ব ইউরোপের দেশ বেলারুশ হয়ে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ বছর বেলারুশ জনপ্রিয় একটি রুটে পরিণত হয় অভিবাসীদের জন্য। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দাবি, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো রাজনৈতিক কারণে অভিবাসীদের উস্কে দিচ্ছেন।