লন্ডনে কেয়ার কর্মীর জন্য হাহাকার

407

ওয়ানবাংলানিউজ: এনএইচএস ইংল্যান্ডের ফ্রন্ট লাইনের সকল কর্মীকে আগামী পয়লা এপ্রিলের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে কোভিডের পূর্ণ ডোজ টিকা গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু কেয়ার হোম কর্মীদের জন্য এই সময়সীমা শেষ হয়েছে বুধবার। অর্থাৎ, বৃহস্পতিবার থেকে কেয়ার হোম কর্মীদের জন্য নো-জ্যাব, নো-জব, অর্থাৎ কোভিডের টিকা না নিলে চাকরিও থাকবেনা। এদিকে সারা দেশের মধ্যে ভ্যাকসিন গ্রহণ না-করা সর্বোচ্চ সংখ্যক কেয়ার হোম কর্মীর বসবাস লন্ডনে। ফলে নো-জ্যাব, নো-জব নীতি কার্যকর হলে লন্ডনে কেয়ার হোম কর্মীর সংকট সৃষ্টি হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

কেয়ার হোম কর্মীর এই সাক্ষাতকার ১০ মাস আগে নেয়া হয়েছিল। তখন এই কেয়ার হোমের ম্যানেজার জনাথন বিছাম আশংকায় ছিলেন, ভ্যাকসিন গ্রহণ না করার কারণে তাঁকে ২৫ শতাংশ কর্মী হারাতে হবে। কিন্তু গত কয়েক মাস যাবত সরকারের গৃহীত নো-জ্যাব, নো-জব নীতির কারণে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন দেখা যায়। কিছু কর্মী চাকুরী ছেরে চলে গেলও অধিকাংশ কর্মী ভ্যাকসিন গ্রহণ করে চাকুরীতে থেকে যান।

অনেক কেয়ার হোম কর্মী নিজের বিবেচনা কাজে লাগিয়ে অবশেষে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।

কিন্তু এই কেয়ার হোমের প্রায় সব কর্মীই ভ্যাকসিন গ্রহণ করলেও অধিকাংশ কর্মী এখনও বুস্টার ডোজ নেননি। ভ্যাকসিনের দুই ডোজ গ্রহণ বাধ্যতামূলক হলেও বুস্টার ডোজ গ্রহণ এখনও আইঙ্গতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। এখানকার কিছু কর্মী বলছেন, তারা বুস্টার ডোজ নিতে অস্বীকৃতি জানাবেন।

ভ্যাকসিন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার আগে কেয়ার সেক্টরে ১ লাখ পদ শূন্যও ছিল। ন্যাশনাল কেয়ার এসোসিয়েশনের আনুমানিক হিসেবে এখন সেই সংখ্যা আরও ৪০ হাজার বেড়েছে। কারণ এই চাকুরী ছেড়ে চলে যাচ্ছে কর্মীরা।

সরকার বলছে, ভ্যাকসিন জীবন রক্ষা করে। ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জীবন রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। সরকারি তথ্য অনুযায়ী কেয়ার হোমের ৯০ শতাংশ কর্মী উভয় ডোজ টিকা নিয়েছেন। কেয়ার হোম সর্বোত্তম সেবা দিতে সরকার স্থানীয় প্রশাসন এবং কেয়ার হোমগুলোর সাথে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু লন্ডনের এই কেয়ার হোমের ম্যানেজার বলছেন, কেয়ার হোমের জন্য কর্মী পাওয়া একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।