ঢাকা সংবাদদাতা: ঢাকাস্থ চীনের উপ-রাষ্ট্রদূত ইয়ান হুয়ালং জানিয়েছেন, করোনার কারণে বাংলাদেশে আটকে পড়া চীনে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের যত দ্রুত সম্ভব ফিরিয়ে নিতে কাজ করছে তার সরকার। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই তাদের ফেরা শুরু হবে। এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাই এবিসিএ’র আয়োজনে ‘গণচীন প্রতিষ্ঠার ৭২তম বর্ষ এবং চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪৬তম বার্ষিকী’ বিষয়ক এক অনলাইন সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় উপ-রাষ্ট্রদূত এ আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান চীনে পড়ুয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে দেশটির সরকারের অঙ্গীকারের প্রতি সমর্থন এবং আস্থা ব্যক্ত করে বলেন, আমি আশা করি চীন সরকার এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
উল্লেখ্য, করোনা মহামারির কারণে চীনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী গত দেড় বছর ধরে দেশে আটকা পড়ে আছেন। তাদের প্রায় সবাই চীনের সিনোফার্মের ভ্যাকসিন গ্রহণ করে বেইজিং ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে উন্নীত হওয়া এবং অবকাঠামো খাতে চীনের শর্তযুক্ত ঋণের কারণে ভবিষ্যতে ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশ চিন্তাভাবনা করেই বিদেশি ঋণ নেয়। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে চীনা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ এবং দুই সরকারের মধ্যেকার সহযোগিতা দিনে দিনে বাড়ছে। এটি বাড়তে থাকবে।
যে যাই বলেন না কেন, বাংলাদেশ কখনোই ঋণের ফাঁদে পড়বে না। কারণ জিডিপি’র অনুপাতে বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ অনেক কম এবং রিজার্ভের পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। সুতরাং ঋণের ফাঁদে পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাই (এবিসিএ বা অ্যাবকা) প্রেসিডেন্ট চীনে দায়িত্বপালনকারী প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেনÑ অ্যাবকা’র সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শাহাবুল হক, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন এ কামাল। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চীনের সভ্যতার ফিরিস্তি তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তারা এর সঙ্গে বাংলাদেশ তথা এ অঞ্চলের সম্পর্কের যোগসূত্রের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন। বলেন, বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতাগুলোর অন্যতম সমৃদ্ধ সভ্যতা হচ্ছে চৈনিক সভ্যতা। অনুষ্ঠানে নির্ধারিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চায়না মিডিয়া গ্রুপ-সিএমজির বাংলা বিভাগের প্রধান ও অ্যাবকা উপদেষ্টা ইউ কুয়াং ইউয়ে আনন্দী, অ্যাবকা’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাইনুল ইসলাম, অ্যাবকা’র যুগ্ম সম্পাদক ও চীনের সাংহাই ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্সের প্রভাষক ড. এএএম মুজাহিদ, বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ-বিসিসিসিআই’র যুগ্ম সম্পাদক আল মামুন মৃধা। অনুষ্ঠানে দেয়া সমাপনী বক্তব্যে অ্যাবকা প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, উন্নয়নের কেন্দ্রে ‘মানুষ’কে রাখার কারণেই আজকে চীন এতটা উন্নতি করতে পেরেছে। তার মতে, মানুষের কথা চিন্তা করে কাজ করলে নিশ্চিতভাবে উন্নয়ন টেকসই হবে।















