সিলেট সংবাদদাতা :: ৬ দফা দাবিতে সিলেটে রোববার (৩ অক্টোবর) থেকে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলো সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। তবে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দেওয়ায় আন্দোলনের পথ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন অটোরিকশা শ্রমিকরা।
শনিবার (২ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দকে তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস প্রদান করেন।
জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ৬ দফা দাবিতে সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন সিলেট জেলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। পরবর্তীতে গত ২০ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে শ্রমিকরা ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করেন। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করে সংগঠনটি। এ সব কর্মসূচি থেকে তারা দাবি বাস্তবায়ন না হলে ৩ অক্টোবর (রবিবার) থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘােষণা দেন। তবে এ বিষয়ে শনিবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামের উপস্থিতে সেখানে মহানগর পুলিশের (ট্রাফিক) বিভাগের কর্মকর্তা ও সিএনত্তিচালিত অটোরিকশা মালিক ও শ্রমিক সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা শ্রমিকদের কয়েকটি দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে রবিবার থেকে ডাকা কর্মবিরতি স্থগিত করেন অটোরিকশা শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে সিলেট জেলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি. নং-চট্ট-০৭) সভাপতি জাকারিয়া আহমদ রবিবার সিলেটভিউ-কে বলেন, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন সব দাবি মেনে না নিলেও আমাদের কয়েকটি দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। তাই আজ (রবিবার) থেকে ডাকা কর্মবিরতি আমরা স্থগিত করেছি। যদি আমাদের দাবি পূরণের উদ্যোগ না নেওয়া হয় তাহলে আবারও মাঠে নামতে বাধ্য হবো আমরা।
তিনি বলেন, সিলেট মহানগরীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা পুলিশের হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। সভায় উপস্থিত ট্রাফিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, কাউকে অযথা হয়রানি করা হবে না। এছাড়া বিআরটিএতে সেবা নিতে গিয়ে শ্রমিকরা যে হয়রানির শিকার হন সে বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে আনলে তিনি তা সমাধানের ব্যবস্থা নিবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।
জাকারিয়া বলেন, আমাদের আরেকটি দাবি ছিল সড়কে বিদ্যুতচালিত অটোরিকশাসহ সব অবৈধ যানবাহনের চলাচল নিষিদ্ধ করা। এ বিষয়েও জেলা প্রশাসক ব্যবস্থা নিবেন বলে আমাদের আশ্বাস প্রদান করেছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছি- ৩ জন যাত্রী নিয়ে চলাচল করলে ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে ঝামেলা বাঁধে। তাই অন্তত ৪ জন যাত্রী নিয়ে চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া হোক। বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন এসএমপির ট্রাফিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।















