ঢাকা সংবাদদাতা: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের প্ররোচনায় দুদক ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন।
মঙ্গলবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় সাঈদ খোকন তার নিজের ও পরিবারের আটটি ব্যাংক হিসাব স্থগিতের বিষয়টি নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সাঈদ খোকন বলেন, আপনাদের অবগতির জন্য জানাতে চাই- দুদক আমার এবং আমার পরিবারের কোনো সদস্যকে কোনোরূপ নোটিশ প্রদান না করে, কোনোরূপ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি আদালতের মাধ্যমে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আমি মনে করি এর মাধ্যমে আমার ও আমার পরিবারের মৌলিক ও সাংবিধানিক ক্ষুণ্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সেটির মেয়র তাপস নগর পরিচালনায় তার সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতে প্রায়ই আমার প্রতি বিভিন্ন হয়রানি ও বিদ্বেষমূলক আচরণ করে আসছেন।
ডিএসসিসির এই সাবেক মেয়র বলেন, সন্দেহের বশবর্তী হয়ে একজন সম্মানিত মানুষের সম্মান ক্ষুণ্ণ করা কোনো ভাবেই কাম্য হতে পারে না। ঢাকার শেষ সর্দার মালেক সর্দারের কন্যা, ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের স্ত্রী লাঞ্ছিত হবে, এটা ঢাকাবাসী মেনে নেবে না।
দুর্নীতি দমন কমিশনের এহেন কর্মকাণ্ড তাপসের প্ররোচণায় সংগঠিত হয়েছে দাবি করে সাঈদ খোকন বলেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আমার এবং আমার পরিবারের সাত কোটি ৬২ লাখ ১৪ হাজার ৬০৩ টাকা রক্ষিত রয়েছে।
সাঈদ খোকন আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকলে, আমাদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাওনা বকেয়া বন্ধ হয়ে যাবে। আমার সংসার পরিচালনা করা দূরহ হয়ে পড়বে। বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্ত কিছু আমার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে।
দুদককে অনুরোধ করে তিনি বলেন, আপনারা আদালতের মাধ্যমে আমার জব্দ করা অ্যাকাউন্ট সচল করে দিয়ে আমাকে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা পরিচালনার সুযোগ করে দেবেন। এটা আমার ও আমার পরিবার মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার।
তিনি বলেন, তদন্ত করতে আমার ও আমার পরিবারের কোনো আপত্তি নেই। দুদক তদন্ত করতেই পারে। কিন্তু কারো প্ররোচনায় বা দলাদলিতে দুদক জড়াবে, একজন নাগরিক হিসাবে আমি প্রত্যাশা করি না। আমি কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা দেখতে চাই।
এর আগে, রোববার (২৭ জুন) সাঈদ খোকনের তিনটি প্রতিষ্ঠানের তিনটি, স্ত্রী ফারহানা আলমের দুটি, বোন শাহানা হানিফের দুটি ও মায়ের একটি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আবেদন করে দুদক। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ ব্যাংক হিসাব স্থগিতের আদেশ দেন।
এরপর সাংবাদিকরা সাঈদ খোকনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সোমবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় সাঈদ খোকনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহা. হাবিবুল ইসলাম সুমন গণমাধ্যমে এই বিবৃতির মাধ্যমে জানান, আদালতের আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের (অবরুদ্ধ) বিষয়ে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।















