লাল পাসপোর্টের নীল বেদনা পর্ব ২, স্ত্রীর সন্দেহ আর স্বামীর টাকার লোভে ভেঙ্গে গেল সুখের সংসার

1913

মো: রেজাউল করিম মৃধা: ছিল এক সুখের সংসার, স্বামী আর এক ছেলে এবং এক মেয়ে নিয়ে সুখে স্বাচ্ছন্দে দিন যাচ্ছিল । দুটি সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় ইতালীর এতদিনের সংসারের মায়া ত্যাগ করে চলে আসেন লন্ডনে।

লন্ডনে এসেও বেশ কিছু দিন সুখেই যায় তাদের। স্বামী বেচারা প্রথমে একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করলেও কিছু দিন পর স্ত্রীর পরামর্শে মিনিক্যাবে নামেন। ক্রয় করেন চকচকে নতুন গাড়ী। স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ঘুরে বেড়ান মনের আনন্দে।

সাধারণত ইতালী থেকে এসে বেশীর ভাগ মানুষ অতি সহজে মিনিক্যাব বা উবারে কাজ করেন। ইতালীয়ন ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্রিটেনে কার্যকর তবে ছয় মাসের মধ্যে” ডিভলা” থেকে পরিবর্তন করে নিলেই হয়। মিনিক্যাব করতে হলে দুটি পরীক্ষায় পাশ করলেই হয় পাশ করাও সহজ সেই সাথে আপনার জিপি বা ডাক্তারের নিকটি থেকে একটি সার্টিফিকেট এবং নির্দিষ্ট ফি দিয়েই সহজে পেয়ে যাবেন স্বপ্নের মিনিক্যাব ড্রাইভিং লাইসেন্স।

যাদের নিজের গাড়ী কেনার ক্ষমতা আছে বা অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আছে তাদের জন্য ভালো আর না হলেও কোন সমস্যা নেই আপনার টেক্সী ক্যাব চালানোর লাইসেন্স থাকলেই ট্যাক্সি ক্যাব কোম্পানী গুলি থেকেও আপনাকে গাড়ী দিবো সেক্ষেত্রে প্রতি মাসে আপনাকে গাড়ীর জন্য অতিরিক্ত পে করতে হবে। এ জন্য বেশীর ভাগ মানুষ নিজেই গাড়ী কিনে ক্যাব উবারে কাজে লেগে যান।

ঘটনাটি ২/৩ বছর আগের তখন মিনি ক্যাব, ট্যাক্সি এবং উবারে জয়জয়কার। প্রায় সবাই উবারে কাজ । পয়সা আর পয়সা যে যতক্ষন কাজ করতে পারবেন ততই পয়সা ইনকাম হবে। স্বামী বেচারার পয়সার পেয়ে যায়। সংসারে সময় দেওয়ার মত সময় তার হাতে নেই। রাত দিন ট্যাক্সি করা অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফিরে আসলেও সংসার জীবনে নেমে আসে এক কালো অধ্যায়।

কথায় আছে লোভে পাপ পাপে মৃত্যু। কিন্তু সেই লোভ তাকে এত বড় মাসুল দিতে হবে তা কি সে জানতো ?

কথায় আছে বিপদ যখন আসে চার দিকদিয়েই আশা। কিন্তু এই বিপদ সে নিজেই ডেকে এনেছে। সাধারণত ইতালী থেকে যারা আসনে। তারা অনেক বন্ধুবান্ধবকে ব্রিটেনে আসতে কোন না কোন ভাবে সবাই সহযোগিতা করে থাকেন।

ভাগ্য যখন খারাপ হয় তখন দূর্বা বনে ও বাঘে ধরে। স্বামীর ব্ন্ধুর স্ত্রী এবং এক মেয়ে লন্ডনে সেটেল্ট হওয়ার জন্য তার বাসায় জায়গা দেওয়া হয়। ইতালী থাকতেই দুই পরিবারের মধ্য অনেক জানাশুনা । অনেক পরিচিত।

খাল কেঁটে কুমির এনেছে। বেচারা স্বামী দিনরাত উবার নিয়ে ব্যস্ত। কোন রকম বাসায় এসে খেয়ে সামান্য বিশ্রাম বা ঘুম দিয়ে আবার ছুটে চলা। বিরামহীন পথ চলা এই চলার যেন শেষ নেই। যখন শেষ হলো তখন সব শেষ।

যে কথা বলছিলাম। স্বামী বেচারা অর্থের পিছনে দৌডাচ্ছেন। অল্প দিনে বেশী পয়সা আয় করার জন্য। আরো বেশী বেশী আয় করবেন। কত সুখের সংসার অর্থের কোন অভাব নেই। এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলে স্কুল পেরিয়ে কলেজে, মেয়ে প্রাইমারি স্কুল থেকে সেকেন্ডারি স্কুলে যাচ্ছে। ছেলে জিসিএসি তে অনেক ভালো ফলাফল করেছে। সন্তানের পরীক্ষার ভালো ফলাফলে সবাই খুশি ।
কিন্তু ঐ যে খাল কেঁটে কুমির এনেছে সে কিছুতেই যেন এই আনন্দ মেনে নিতে পারেন নি।

সংসার ভাঙা হচ্ছে ইবলিশ বা শয়তানের সব চেয়ে বড় কাজ। এ কাজে যারা সহযোগিতা করে আল্লাহ তাদেরকে নালদ দেন। রোজ কিয়ামতের দিন তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।

স্বামী বাসায় আসলেই ঝগড়া শুরু করেন প্রানের প্রিয়তম স্ত্রী। প্রানের প্রিয়তম বললাম এই জন্য যে এদের বিয়েটা হয়েছে প্রেম বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে থাকতেই তাদের পরিচয়। ইতালী থেকে দেশে গিয়ে বাবা মায়ের অমতে নিজেই বিয়ে করেন। বাবা মা এ বিয়ে মেনে নেন নি। সে এক লম্বা কাহিনী । হয়তো পরে কোন এক সময় লেখার চেস্টা করবো। যার জন্য বাবা মা কে ছেড়েছেন আজ সেই প্রানের চেয়েও প্রিয় মানুষটি তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। হৃদয় ভেঙ্গে যাচ্ছে। স্ত্রী এবং অতি আদরের দুটি সন্তান। আজ তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। সেই কস্ট সে কাকে বলবে ?

দিন যত যায় স্ত্রীর স্বন্দেহ মাত্রা আরো বেড়ে যেতে থাকে। বাসায় সব কিছু থাকার পরও স্বামীর জন্য কোন খাবার থেকে না । বাসায় প্রবেশ করলেই শুরু হয় গালাগাল। এত সুন্দরী মানুষ যার রুপ এবং সৌন্দর্যর পাগল হয়ে আপন বাবা মা ভাই বোন দের থেকে দূরে বহু দূরে রেখে ঘর বাঁধে। সেই সুন্দর মানুষটির, সেই সব চেয়ে প্রিয় মানুষটি এমন নোংরা ও অকথ্য ভাষায় বকাঝকা শুনবে জীবনে একবার ও ভাবেননি।

ভাগ্যের পরিহাস না যায় খন্ডন। ঐ কুটনী মহিলা নতুন বাসা নিয়ে তার নিজের বাসায় চলে গেলেও যোগাযোগ অব্যহত রেখেছে। ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

এর মাঝে আশ-পাশের সবাই ঘটনা জানছে। স্যোশাল সার্ভিস এসে ঘটনা সমাপ্তি করতে চাচ্ছে কিন্তু স্ত্রী কারো কোন কথাই শুনতে রাজি নয় । অহেতুক সন্দেহ করে তার সাথে সংসার না করার সিদ্ধান্ত অটল থাকে।

একদিন ঝগড়া চরমে পৌছে স্বামী বিচারা তার প্রিয় সব চেয়ে প্রিয় মানুষটির গায়ে হাত তোলে। এ যেন সোনায় সোহাগা । মেঘ না চাইতেই বৃস্টি । ঘটনা স্থলে পুলিশ আসে । সোসাল সার্ভিসসহ সহ অন্যান্য বহু সংস্থার লোক আসে। আজ সবাই সুন্দর স্ত্রীর পক্ষে। স্ত্রী এবং সন্তানদের কাউন্সিলের পক্ষ থেকে একটি দুই রুমে বাসা দেওয়া হয়।

আপনারা জানেন এদেশে যদি একবার সোসাল সার্ভিলের লোক আপনার সংসারে প্রবেশ করে তবে আপনার একূল ঐকূল দুই কূলই নিয়ে যায়। ব্রিটেনের আইন মনে হয় সব সময় মহিলাদের পক্ষে। কিন্তু স্বামী বা পুরুষরা অন্যায় না করেও অপরাধী হবেন।

এর দায় কার? সরকারের না আইনের? স্ত্রী এবং ১৮ বছর বয়সের নিচের শিশুদের জন্য সরকারে যত সহযোগিতা আছে। একজন পুরুষ অন্যায় না করেও কি কোন সহযোগিতা পেতে পারে?

স্ত্রীর গায়ে হাত তোলার অপরাধে স্বামীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আর এভাবেই একটি সুখের সংসার ভেঙে খান খান হয়ে গেল।

আমার ব্যক্তিগত মতামত অন্যের পরামর্শ, ভাবীদের আড্ডা , সোসাল সার্ভিসের সহযোগিতা এবং আইন মহিলাদের পক্ষে সহজ হওয়ার সংসারে বিচ্ছেদের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে।