দেশে বাড়ছে করোনা রোগী

423

ঢাকা সংবাদদাতা: ঢাকাসহ সারা দেশের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগী বাড়ছে। গত সপ্তাহের চেয়ে এই সপ্তাহে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। সাধারণ করোনা রোগীর পাশাপাশি জটিল রোগীদের সংখ্যাও বাড়ছে। জটিল রোগীদের জন্য সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সংকটও তৈরি হয়েছে। অনেক হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা খালি নাই। এতে করে অনেক রোগী আইসিইউ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে মৃত্যুবরণ করছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা আগে থেকেই ধারণা করা হয়েছিল আবহাওয়া পরিবর্তন হলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হতে পারে। তবে এখনই দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে এটা বলা যাবে না।

শীতের প্রকোপ বাড়লে সংক্রমণ বাড়তে পারে। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শীতে রোগী বাড়তে পারে এধরনের ব্যবস্থা আগে থেকেই নেয়া ছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা দেয়া ছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঢাকার ১৯টি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে বর্তমানে করোনা রোগীদের জন্য সাধারণ শয্যা আছে ৩ হাজার ৫১৯টি। এরমধ্যে এক সপ্তাহে আগে ৩রা নভেম্বর এসব শয্যায় রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৭১৩ জন। শয্যা খালি ছিল ১ হাজার ৮০৬টি। ৩১৪টি আইসিইউ শয্যায় রোগী ভর্তি ছিল ১৮৩ জন। আর শয্যা খালি ছিল ১৩১টি। অথচ ৮ই নভেম্বর সমান সংখ্যক সাধারণ শয্যায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮৬৯ জন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১৫৬ জন রোগী বেশি ভর্তি হয়েছেন। খালি শয্যা কমে এখন দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫০টিতে। সপ্তাহের ব্যবধানে আইসিইউ শয্যায় ১১ জন রোগী বেড়েছে।

এক হিসাবে দেখা গেছে, ৩রা নভেম্বরের পর ধারাবাহিকভাবে রোগী বেড়েছে। ৪ঠা নভেম্বর রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৭৫৫ জন। শয্যা খালি ছিল ১ হাজার ৭৬৪টি। ৫ই নভেম্বর রোগী বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮০৭ জন। শয্যা খালি ছিল ১ হাজার ৭১২টি। ৭ই নভেম্বর রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৮৬৫ জন। শয্যা খালি ছিল ১ হাজার ৬৫৪টি। ৩রা নভেম্বর আইসিইউ শয্যা খালি ছিল ১৩১টি। কিন্তু এক সপ্তাহের ব্যবধানে আইসিইউ শয্যা কমে হয়েছে ১২০টি।

ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের ১০টি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতেও রোগী বেড়েছে। ৩রা নভেম্বর রোগী ভর্তি ছিল ১৪১ জন আর শয্যা খালি ছিল ৬৮৪টি। কিন্তু এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেখানে রোগী বেড়ে হয়েছে ১৫১ জন। ৮ই নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে খালি শয্যার সংখ্যা ছিল ৬৭৪টি। ৭ ও ৮ই নভেম্বর একদিনের ব্যবধানে ১০ জন রোগী বেশি ভর্তি হয়েছেন। চট্টগ্রামে জটিল রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে। ৩রা নভেম্বর ২৬ জন রোগী আইসিইউতে ভর্তি থাকলেও এই কয়েকদিনে আরো অনেক রোগী বেড়েছে।
ওদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সারা দেশের হাসপাতালগুলোর চিত্র পাওয়া গেছে। শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রাম নয় পুরো দেশেই করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সারা দেশের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগে ৩রা নভেম্বর সারা দেশে করোনার সাধারণ শয্যার সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৬০৮টি। এসব শয্যায় রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৩৬০ জন। শয্যা খালি ছিল ৯ হাজার ২৮টি। এক সপ্তাহ পর ৮ই নভেম্বর সাধারণ রোগী ভর্তি ২ হাজার ৫৪৩ জন। খালি শয্যা কমে হয়েছে ৯ হাজার ৬৫টি।

ঢাকার দু’টি সরকারি ও দু’টি বেসরকারি হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সপ্তাহ ধরে করোনা রোগীদের আনাগোনা বেড়েছে। গত কয়েক মাসের তুলনায় এই সপ্তাহে রোগী ভর্তি বেড়ে গেছে। তবে ঠিক কি কারণে রোগী বাড়ছে এ বিষয়ে কেউ কিছু জানাতে পারেননি। এসব হাসপাতালে সাধারণ রোগী পাশাপাশি জটিল করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। সরকারের করোনা ডেডিকেটেড ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য সাধারণ শয্যা আছে ৮৮৩টি। এসব শয্যায় এক সপ্তাহ আগে রোগী ভর্তি ছিল ৪৭৬ জন। আর শয্যা খালি ছিল ৪০৭টি। আর গতকাল এই হাসপাতালে রোগী বেড়ে হয়েছে ৫৩৩ জন। শয্যা খালি আছে মাত্র ৩৫০টি। কুর্মিটোলা হাসপাতালের ২৭৫টি সাধারণ করোনা শয্যায় এক সপ্তাহ আগে রোগী ভর্তি ছিল ২৭৩ জন। খালি শয্যা ছিল ২টি। কিন্তু গতকাল খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে ২৭৫ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি আছে ৩০৪ জন। হিসাব মতে হাসপাতালের ধারণক্ষমতার চেয়ে ২৯ জন অতিরিক্ত রোগী ভর্তি আছেন। এই হাসপাতালের ১০টি আইসিইউ শয্যার সবক’টিতেই সপ্তাহখানেক ধরে জটিল রোগীরা ভর্তি আছেন। একইভাবে বেসরকারি ইবনে সিনা হাসপাতালের ৩৬টি করোনা শয্যার সবক’টিতেই রোগী ভর্তি আছেন। এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালটির করোনা শয্যা খালি হচ্ছে না। ইউনাইটেড হাসপাতালের ৫৯টি করোনা শয্যায় এক সপ্তাহ আগে ৩৭ জন রোগী ভর্তি ছিল। গতকাল সমপরিমাণ শয্যায় ৫২ জন রোগী ভর্তি আছেন।