ট্রাম্পের ভিসা নিষেধাজ্ঞায় আদালতের স্থগিতাদেশ

621

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে এইচ ওয়ান বি ভিসার (বিদেশিদের চাকরির ভিসা) ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে সেদেশের আদালত। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতের রায়ে বলা হয়, ট্রাম্প তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। ‌এই রায়ের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন সংস্থার উপর বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে যে নিষেধাজ্ঞা বসিয়েছিল মার্কিন সরকার, তা আর কার্যকর থাকছে না। বরং জরুরি প্রয়োজনে বিদেশি নাগরিকদের চাকরি দিয়ে শূন্য পদগুলি পূরণ করা যাবে। ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিগত নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য বিভক্তিকরণকেই প্রধান উপায় করেছিলেন ট্রাম্প। দরিদ্র শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানকের কাছে টানতে ট্রাম্প তাদের বিপরীতে তিনি শত্রু হিসেবে হাজির করেছিলেন আফ্রিকান আমেরিকান, এশিয়ান কিংবা মেক্সিকানদের। ট্রাম্প এই শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের বোঝাতে চান, এরাই তাদের দুর্দাশার জন্য দায়ী। কিংবা দায়ী তারা, যারা বিদেশ থেকে এসে যারা আমেরিকায় চাকরি করে। এবারও একই ধারার নির্বাচনি কৌশল নিয়েছেন ট্রাম্প।
নোভেল করোনার জেরে উদ্ভুত সঙ্কট এবং আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে গত জুনে সাময়িক ভাবে এইচ ওয়ান ভিসায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন তিনি। জানিয়ে দেন, এ বছরের শেষ পর্যন্ত আর কোনও ওয়ার্ক ভিসা দেওয়া হবে না। এর ফলে মার্কিন নাগরিকদের জন্য পাঁচ লাখ ২৫ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সেইসময় প্রতিবাদে সরব হয় সে দেশের বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি ও পণ্য উৎপাদনকারী সংস্থা। বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় ন্যাশনাল অ্যসোসিয়েশন অব ম্যানুফ্যাকচারার্স। সরকারি সিদ্ধান্তকে শুধুমাত্র আইনবিরোধী বলেই উল্লেখ করেনি তারা, এর নির্দেশের ফলে সংস্থাগুলির উপর সংকট আরও চেপে বসবে বলেও আদালতে জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দান ডিস্ট্রিক্টের বিচারপতি জেফরি হোয়াইট জানিয়ে দেন, নিজের সাংবিধানিক অধিকারের বাইরে গিয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশের অভিবাসন নীতি কী হবে, সংবিধান অনুযায়ী তা ঠিক করার দায়িত্ব একমাত্র কংগ্রেসের। প্রেসিডেন্টের হাতে সেরকম কোনও ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।
আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান ন্যাশনাল অ্যসোসিয়েশন অব ম্যানুফ্যাকচারার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল কাউন্সেল লিন্ডা কেলি। তিনি বলেন, ‘‘দক্ষ কর্মী খুঁজে এনে নিজ নিজ ক্ষেত্রে উদ্ভাবন ঘটানোয় গোটা বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা আমাদের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে যারা, এই উদ্ভাবনী শক্তির মূল স্তম্ভ হিসেবে দেখতে চায়, সাময়িক ভাবে হলেও, সেই ম্যানুফ্যাকচারার্স কমিটি আজকের এই সিদ্ধান্তকে জয় হিসেবেই দেখছে।’