শেফিল্ড থেকে আহমদ হোসেন হেলাল: মানুষ মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসবে এটাইতো মানবতা । করোনাকালের এই ক্রান্তিকাল মানুষের জীবনে উদাহরণ হয়ে থাকবে। পৃথিবীর সব দেশ গুলো কঠিন সময় পার করছে । লকডাউনের কবলে বিশ্বের বেশীর ভাগ দেশ । মহামারীর প্রভাব পড়েছে ব্যবসা, বানিজ্য চাকুরি সহ সবখানেই যেন সংকটের কঠিন সময় অতিক্রম করছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আনতোনিও গুতেরেস বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর করোনা-ভাইরাস পৃথিবীতে মহা এক সংকট তৈরী করেছে ।
কিন্তু বৃটেন প্রবাসীরা এই ক্রান্তিকালেও নিজ দেশ বাংলাদেশের জন্য অতীতের মত সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে এখনো নিজ দেশের সমস্যা দেখলে এগিয়ে আসেন। করোনাকালেও প্রবাস থেকেই নিজ এলাকা বা প্রয়োজনীয় স্থানে ত্রান সামগ্রী বিতরন করছেন ।
যেমন শেফিল্ড গলমুকাপন চ্যারেটি সংগঠন, হাড়গ্রাম যুক্তরাজ্যে সংগঠন, লন্ডনের কদমতলী গুটাটিকর সংগঠন, সহ বিভিন্ন শহরের সংগঠন বাংলাদেশের অসহায় মানুষদের ত্রান সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। শেফিলড বালাগনজ এস, এম মেমোরিয়েল ট্রাস্ট ও ডনকাসটারের হাজী মছববির আলী ফাউন্ডেশন ও শেফিলড আই, আসপায়ার ফাউন্ডেশন সহ বৃটেনের বিভিন্ন সংগঠন চ্যারেটি সংস্থার মাধ্যমে বা ব্যাক্তিগত ভাবেই সহযোগিতা করছেন । আবার কেউ কেউ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করছেন । বাংলাদেশ টি টুয়েনটি জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাহমুদুললাহ রিয়াদ অসহায় দুস্থদের সম্মান বাড়িয়ে প্যাকেটে ত্রাণের পরিবর্তে উপহার লিখে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করছেন ।
এদিকে বৃটেনে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসক নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট ও অন্যান্য রেস্টুরেন্ট থেকে পক্ষ থেকে খাবার উপহার দিচ্ছেন । করোনাভাইরাস কমানোর জন্য সৌদীআরব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংসতাকে ৫০ কোটি ডলার দান করেছে।
এই করোনাকালে সারা বিশ্বের সরকার প্রধান প্রশাসনের সবাই এক চরম ব্যস্ততায় সময় পার করছেন । বিশেষ করে ইউরোপ আমেরিকায় মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে অসংখ্য লাশ।
এদিকে জামানীর বানিজ্য মন্ত্রী শ্যাফার করোনায় মানুষের মৃত্যুর ভয়াবহতা দেখে নিজেই বিষননতায় আত্ম হত্যা করেন।
অন্যদিকে করোনায় মৃত্যুর লাশ দেখতে দেখতে হতাশ হয়ে আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরের চিকিৎসক ডঃ লরনা ব্রিন নিজেই আত্ম হত্যা করে মৃত্যু বরন করেন ।
এদিকে মহাকাশে ২০৫ দিন থাকার পর দুইজন আমেরিকান ও একজন রাশিয়ান নভোচারী মহাকাশে করোনা আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীতে ফিরলেন।
মহামারী করোনা রোগের ঔষধ এখনো আবিষ্কার হয়নি। কিনতু খ্যাতিমান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃটিশ বিজ্ঞানী প্রফেসর সারা গিলবাটের নেতৃত্বে ঔষধ আবিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছেন সারা বিশ্ব। প্রফেসর সারা গিলবাট ও তার ভবিষ্যৎ ঐষধের ব্যায়াপারে বেশ আশাবাদী ।
এদিকে বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন চমৎকার কাজ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ।করোনা জয় করে এক পুত্র সনতানের জনক হলেন।
তারপর কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাসটিন ট্রুডো, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নিউজাল্যানডের প্রধানমন্ত্রী জেসিনডা আরডারন সহ আরও নেতাদের করোনাকালে সুন্দর কাজে বিশ্বে বেশ প্রশংসিত হচ্ছেন।
করোনাকালে সারা পৃথিবীর মানুষের চিন্তা চেতনা বদলে দিয়েছে । বাচার অনেক হিসাব নিকাশ বদলে দিয়েছে সারা পৃথিবীর । সামান্য করোনার কাছে পৃথিবী অসহায় । ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুসলমানদের কাছে পবিত্র রমজান মাসে বিশেষ দোয়ার জন্য অনুরোধ জানান। করোনাকালে বাংলাদেশ ভারতে প্রায় সময় হিন্দু মারা গেলে সজনরা পালিয়ে যায় । মুসলমানরা কাধে তুলে নিয়ে সৎকারের ব্যবসতা করছেন। কঠিন এ সময়ের মধ্যে জাতী ধর্ম বর্ণ নিবিশেষে একে অন্যের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছেন। এটাই হলো বিউটি অফ হিউমিনিটি।
ইউরোপের মসজিদ গুলোতে জোরে আজান দেওয়া হচ্ছে । অসট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মসজিদে বিশেষ দোয়া কামনা করা হয়। এদিকে মক্কা ও মদিনা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রেসিডেন্ট ও মসজিদুল হারামের খতিব শাইখ ডঃ আবদুর রহমান সুদাইস।
শাইখ বতমান বিশ্বের করোনা সংকটময় পরিসতিতি নিয়ে বলেন, নিঃসন্দেহে এটি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য এক মহা পরিক্ষা। শাইখ মহাগ্রন্থ আলকোরানে উদৃতি তুলে ধরেন। আর বলেন, আললাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, আর অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পরিক্ষা করবো কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। ( সুরা বাকারা- ১৫৫ )
তাই আমাদের পৃথিবীর মানুষকে কঠিন পরিক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে ।
এদিকে ইউরোপ আমেরিকার ধনী দেশ গুলোতে পিপিই ও কিটস নেই । প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রির জন্য বেশ অসুবিধায় পড়েছে। মহামারীর এই সময় ইউরোপ, বাংলাদেশ, আমেরিকা সহ পুরো বিশ্ব সবাইকে ধৈর্য ধারন করতে হবে।সাবেক রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট মিশাইল গরভাচেব বলেছেন, মহামারী শেষে বিশ্বকে এক হতে হবে ।
মহান সৃষ্টিকর্তার এই পৃথিবী একদিন করোনা মুকত হবে। তাই অদুর ভবিষতে বিশ্বের ধনী দেশ গুলো যুদ্ধ এড়িয়ে সামরিক খাতে খরছ সংকুচিত করে মানবিক কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। তারপর জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।
আমরা গাছ গাছালি কেটে বন জংগল বিনাশ করার পাশপাশি পাহাড় পরবত ধংশ করছি ।মানুষেরা সাগর নদী খাল দখল করে ভরাট করছে । খাদ্যে ভেজাল দিচ্ছে । মানুষরা ধৈর্যহীন হয়ে যাচ্ছে।মানুষ অহংকারপূর্ণ আচরন করছে।ধনীরা ধনী হচ্ছে আর ধনীদের মধ্যে কৃপণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে ।মানুষের ধংশের জন্য জীবাণু অস্ত্র তৈরী করছে । পৃথিবীর মানুষের ধংশের রাজনীতি পরিহার করতে হবে।
হয়তঃ আমাদের পাপের পরিনতি আজকের করোনাকালের পৃথিবী।
তাই এখন সময় এসেছে, সব দেশ জাতী মিলেমিশে পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস। মানুষ ও প্রকৃতির প্রতি মানুষের ভালবাসা।পবিত্র আলকোরানে বলা আছে, আপনার রব কখনো ভুলে যান না। সুরা মারিয়াম -৬৪, মহান সৃষ্টিকর্তার সেরা উপহার মানুষ । মানুষই তার সুনদর কাজে পৃথিবীর শান্তির রচনা করতে পারে।
যাক চমৎকার একজন ক্যাপটেনের কথা ও একজন কবির ইংরেজী কবিতার কয়েকটি লাইন দিয়ে লেখা শেষ করছি ।
চমৎকার মানুষ বৃটেনের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কমকতা ক্যাপটেন টম মুর ( ৯৯ )। ন্যাশনাল হিরো ক্যাপটেন টম একশো পা হেটে এন, হেইচ, এস এর জন্য ১২০ কোটি পাউন্ডের তহবিল সংগ্রহের রেকর্ড গড়েছেন। আর গৌরব ও আনন্দের মধ্য দিয়ে সাহসী ক্যাপটেন টম ১০০তম জনমদিন পালন করলেন ।
We hope next century we will work
for education
peace
and unity
then world peace will dawn .















