আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিচুয়ান প্রদেশের প্রত্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলে ৭ দশমিক শূন্য মাত্রার এক ভূমিকম্পে ছয় পর্যটকসহ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতের এই ভূমিকম্পে আরো ১৭৫ জন আহত হয়েছেন বলে বুধবার জানিয়েছে প্রাদেশিক সরকার ও দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল প্রদেশটির পার্বত্যাঞ্চল পাংশু এলাকা। ওই দুর্গমাঞ্চলে ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। রিকটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭।
ভূমিকম্পে পাংশু এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে দুর্গমাঞ্চল হওয়ায় এখনো ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ জানা যায়নি।
দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানায়, ভূমিকম্পে সিচুয়ান প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন অঞ্চলটির বাসিন্দারা।
সিচুয়ানের ভূমিকম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্রটি ছিল নগাওয়া এলাকায়। এলাকাটিতে প্রধানত তিব্বতীয় নৃগোষ্ঠীর বসবাস, এদের অনেকে যাযাবর পশুপালক। এলাকাটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য জুঝাইগু সংরক্ষিত প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের নিকটবর্তী।
সিচুয়ান ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, একটি আবাসিক হোটেলের অভ্যর্থনা অংশ ধসে পড়ে কিছু লোক আটকা পড়লেও ভবনটি থেকে দুই হাজার ৮০০ লোককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জুঝাইগুতে নিহত পর্যটকদের জাতীয়তা সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি, কিন্তু এলাকাটি বিদেশি পর্যটকদের চেয়ে চীনা পর্যটকদের কাছেই বেশি জনপ্রিয়।
বর্তমানে জুঝাইগুতে ৩৮ হাজারেরও বেশি পর্যটক ভ্রমণে আছে বলে নিজেদের একটি দাপ্তরিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছে সিচুয়ান সরকার।
চীনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, প্রাদেশিক রাজধানী চেংদু ছাড়াও আরও দূরের শিয়ানেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, ভূমিকম্প দূর্গত এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ ফের সচল হয়েছে এবং উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তার জন্য সামরিক বাহিনী পাঠানো হয়েছে।
জুঝাইগু বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় আছে এবং রানওয়েগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সিচুয়ানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। ২০০৮ সালের মে-তে এখানে সংঘটিত এক ভূমিকম্পে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
সিচুয়ানের পর বুধবার সকালে চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা শিনজিয়াংয়েও ৬ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের ভূমিকম্প প্রশাসন। সেখান থেকে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।















