আইসিইউতে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের অবস্থা ‘ভয়াবহ’: মাইকেল গভ; প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ডমিনিক রাব

4570

ওয়ানবাংলানিউজ ডেস্ক: বৃটেনের ক্যাবিনেট অফিস বিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল গভ স্বীকার করলেন- আইসিইউতে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের লড়াই সত্যিকার অর্থেই ভয়াবহ (ট্রুলি ফ্রাইটেনিং)। তবে আমরা আশা করছি তিনি দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবেন। লন্ডনের অনলাইন ডেইলি মেইল এ খবর দিয়ে বলছে, জনসনকে আইসিইউতে নেয়ার অর্থ হলো তাকে সেখানে কয়েক সপ্তাহ থাকতে হবে।

এ সময়ে সরকারের ক্ষমতায় এক শূন্যতা সৃষ্টি হবে। তার এই অনুপস্থিতিতে কে তার দেশের পারমাণবিক স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবেন তা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাবকে আজকের কোবরা কমিটির বৈঠকে তার পক্ষে সভাপতিত্ব করার নির্দেশ দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার কোবরা মিটিংয়ে সভাপতিত্ব করেন পররাস্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব।

এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ডমিনিক রাব কি কোনো মন্ত্রীকে ‘হায়ার’ বা ‘ফায়ার’ করতে পারবেন!। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে আজ মাইকেল গভ স্বীকার করে নিলেন যে, মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের দ্রুত রোগমুক্তির জন্য প্রার্থনা করছেন। কিন্তু তিনি আইসিইউতে সত্যিকার অর্থে ভয়াবহতার সঙ্গে লড়াই করছেন।
এদিকে আজ থেকে মন্ত্রী মাইকেল গভ নিজেও আজ থেকে সেলফ আইসোলেশনে গিয়েছেন। বিবিসি জানিয়েছে মি: গভ এর পরিবারের সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাই তিনি নিজেও সেফল আইসোলেশনে যেতে হয়েছে।

লন্ডনের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অবস্থিত সেইন্ট থমাস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বরিস জনসনকে। তাকে সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। মাত্র দু’ঘন্টায় তার স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি হওয়ায় সেখানে দেয়া হচ্ছে অক্সিজেন। এ অবস্থায় চিকিৎসকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয় যে, তার ভেন্টিলেটর প্রয়োজন হতে পারে।

তবে বরিস জনসনের অসুস্থতায় সরকার বিকল হয়ে পড়বে বলে যে আশঙ্কা রয়েছে তা উড়িয়ে দিয়েছেন মাইকেল গভ। তিনি বলেছেন, কবে কি করতে হবে তা নিয়ে এরই মধ্যে বরিস জনসন একটি ডায়রি লিখেছেন। তা ছাড়া সিদ্ধান্ত নেয়ার সর্বোচ্চ ক্ষমতা মন্ত্রীপরিষদের। তবে পারমাণবিক স্থাপনা এবং সেনাবাহিনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক দায়দায়িত্ব ডমিনিক রাবকে অর্পণ করেছেন কিনা বরিস জনসন- এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন মাইকেল গভ।

ওদিকে রাশিয়ার মতো শত্রুরাষ্ট্রের বিষয়ে সতর্ক করেছেন এমপিরা। কারণ, বরিস জনসনের স্বাস্থ্যগত বিষয় নিয়ে মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে পারে ওইসব পক্ষ। এর মধ্য দিয়ে তারা বৃটেনের দুর্বলতার সুযোগ নিতে চায়।