ওয়ানবাংলানিউজ: যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত তিন বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রথম মৃত্যুবরণকারী ওল্ডহ্যাম শহরের বাসিন্দা( নাম প্রকাশ করা হয়নি)। ইতিমধ্যে তার জানাজা এবং দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে একাদিক স্যোশাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। যে ছবিটি দেখছেন তা উনাকে দাফন করার মুহূর্তে তোলা হয়। উনার জানাজা এবং দাফনে পরিবারের কেউ অংশগ্রহণ করতে পারেনি । তাদেরকে ও আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তিনি সপরিবারে কয়েক বছর আগে ইটালি থেকে যুক্তরাজ্যে এসে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছিলেন। কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি ইটালিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পর অসুস্থতা অনুভব করে ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার পরীক্ষা করে উনার দেহে করোনা ভাইরাস সনাক্ত করেন। এর পর থেকে দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত পরিবারের কোন সদস্য তাকে আর দেখতেও পারেন নি।
এদিকে যুক্তরাজ্য সফরে এসেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণকারী মাহমুদুুর রহমানের দাফন আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। তিনি মৌলভীবাজার জেলা সদরের ৬ নং একাটুনা ইউনিয়নের বরমান নিবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালিশি ব্যাক্তিত্ব ও মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।
একাটুনা ইউনিয়ন ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের অন্যতম উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান মাহমুদ দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ অবস্থায় লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকা কালীন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১৬ই মার্চ সেন্ট্রাল লন্ডনের গ্রেট অরমন্ড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। বৃটেনের কার্ডিফ থেকে সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর জানান ব্রিকলেন ফোনারেল সার্ভিসের তত্বাবধানে আগামী ১৯শে মার্চ বৃহস্পতিবার হেনল্ট পিচ অফ গার্ডেনে মাহমুদুর রহমান এর দাফন অনুষ্টিত হবে।
এ ব্যাপারে ব্রিকলেন ফোনারেল সার্ভিসের ডাইরেক্টার শওকত সিদ্দিক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন তারা শুধু আইনি কাগজ পত্র ব্যবস্থা করে পিচ অফ গার্ডেনে হস্তান্তর করবেন, বাকী সব কাজ পিছ অফ অফ গার্ডেনের লোকেরা করবেন। তিনি বলেন বিশেষ নিরাপত্তায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মৃত দেহ সেখানেই গোসল ও দাফন করা হবে। আর এ কাজ করার জন্য পিচ অফ গার্ডেন চারজন লোক নিয়োগ করেছে।
বিশেষ কাপড় ও হেলমেট পরিধান করে লাশের গোসল করাবে এবং লাশ কবরে রাখবে।এ সময় কাউকে লাশ দেখানো হবে না। গোসলের পর লাশের ফটো তুলে পরিবারের সদস্যদের দেখানো হবে এবং ফটো দেখানোর পর ডিলিট করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া সেখানে দুটি গাড়ীতে করে মোট ১৪ জন লোক যেতে পারবেন এর বেশী কোন লোক জানাযায় যেতে পারবেন না এবং জানাযার সময় একজন থেকে আরেক জনের দুরত্ব ১মিটার করে দাঁড়াতে হবে। লাশ কবরে রাখার সময় কবর থেকে দুই মিটার দুরত্বে দাঁড়াতে পারবেন।
উল্লেখ্য যে মরহুম মাহমুদুর রহমান গত বছর নাতনীর বিয়েতে যোগদানের জন্য সস্ত্রীক লন্ডনে বেড়াতে এসে ব্রেন ষ্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে প্রথমে ইউ সি এল হসপিটেলে চিকিৎসাধীন
ছিলেন এর পর সেখান থেকে গ্রেট অরমন্ড হসপিটেলে স্থানান্তর করা হয় এবং ধীরে ধীরে তিনি উন্নতির দিকে যাচ্ছিলেন কিন্তু প্রায় দশ দিন আগে হসপিটেলে থাকা অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত হন।
মরহুমের ছেলে মুহিবুর রহমান মুহিব সকলের কাছে দোয়া কামনা করে বলেন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের কারণে আমার বাবার জানাজায় সবাই শরীক হতে না পারায় দূঃখ প্রকাশ করা সহ মহাণ আল্লাহু রাব্বুল আলামীন যেনো তার বাবাকে জান্নাতবাসী করেন এই দোয়া করার জন্য তিনি সবার নিকট বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে দ্বিতীয় বৃটিশ বাংলাদেশী মৃত্যুবরণ কারী ব্যক্তি ছিলেন লন্ডনের বাঙালী অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দা। করোনার সাথে হাসপাতালে ৮দিন যুদ্ধ করার পর গত ১৩ মার্চ শুক্রবার ভোরে পূর্ব লন্ডনের রয়েল লন্ডন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।















