আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা বলছেন সৌদি বাদশাহ মোহাম্মাদ সালমান বিন আবদুল আজিজকে সিংহাসনচ্যুত করার পরিকল্পনা নিয়েছেন তারই ছেলে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)। এ জন্য রাজপরিবারে যাদেরকেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবছেন, তাদেরই শুদ্ধি অভিযানের নামে গ্রেপ্তার করাচ্ছেন।
বলা হচ্ছে আগামী নভেম্বরে রিয়াদে জি২০ সম্মেলনের আগেই সিংহাসনে আরোহন করতে চান সালমান। সেই ভাবনা থেকেই নতুন করে এই ধরপাকড় অভিযান বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা মিডল ইস্ট আই।
ো।জহোুমিডল ইস্ট আইয়ের খবরে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ বিন সালমান তার বাবা বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না। কারণ বাবার উপস্থিতি সন্তান হিসেবে সিংহাসনের বসতে তার জন্য বৈধতা তৈরি করবে। এজন্যই নভেম্বরের সম্মেলনকে বাদশাহ হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছেন যুবরাজ। যেই বাবা তাকে দেশ পরিচালনার অসীম ক্ষমতা দিয়েছিলেন, সেই বাবাকেই সিংহাসন ছাড়তে বাধ্য করতে পারেন তিনি।
সৌদি আরবের বাদশাহ সালমানের জীবিত একমাত্র ভাই প্রিন্স আহমেদ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ এবং ভাতিজা ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফকে আটক করা হয়েছে। রাজপরিবারের এ দুই যুবরাজকে এমবিএসের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভাবা হয়।
মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, সৌদি বাদশাহ এবং তার ছেলে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে প্রিন্স আহমেদ ও মোহাম্মদ বিন নায়েফ অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভ্যুত্থান পরিকল্পনায় সমর্থনের অভিযোগে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ এক ডজনের বেশি কর্মকর্তাকেও আটক করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এমবিএস সিংহাসন দখলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কারণ রাজপরিবারেই অনেকে তার বিরোধীতা করছেন। পাশাপাশি খাসোগি হত্যা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তার অবস্থান ততটা শক্তিশালী নয়। বিদেশে এমবিএস এর বড় বন্ধু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। এ অবস্থায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন এমবিএস। এ কারণেই তিনি যত দ্রুত সম্ভব সৌদি বাদশাহ হতে চাইছেন।















