ইসলামী দৃষ্টিতে বাঙালি পৌষ পাবর্ন

810

মো: কাওছার : প্রবাদ রয়েছে বাঙালির ১২ মাসে ১৩ পর্বণ। পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ উ্সব পালন করা হয়। এই দিন বাঙালিরা বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে। তার মধ্যে পিঠা খাওয়া, ঘুড়ি উড়ানো অন্যতম। সারাদিন ঘুড়ি উড়ানোর পরে সন্ধ্যায় পটকা ফুটিয়ে ফানুস উড়িয়ে উ্সবের সমাপ্তি করে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে, ভারতের বীরভুমের কেন্দুলী গ্রামে জয়দেব মেলা, আউনি বাউনি, চবিধ্বশ পরগনা জেলায় এটি বেশীপরিমানে উদযাপিত হয় যা এখন বাংলাদেশের কিছু কিছু অঞ্চলেও হয়ে থাকে।

ইউরোপে ঘুড়ি উড়ানো কোন উপায় না থাকলেও এখানে দিনব্যাপি অনুষ্ঠান করে শিশুদের নাচ গান এবং নারীগন রংবেরঙের শাড়ি পরে এদিনটি উদযাপন করে। লন্ডনে শীত ও বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেও পৌষ পাবর্ন করতে দেখা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে বাংলাদেশে পুরান ঢাকায় পৌষসংক্রান্তি সাকরাইন নামে, নেপালে এই দিবসটি মাঘি নামে, থাইল্যান্ডে সংক্রান, লাওসে পি মা লাও, মিয়ানমারে থিং ইয়ান এবং ক“োডিয়ায় মহাসংক্রান নামে উদযাপিত হয়। গ্রীস্মকাল অতিবাহিত হলেই বর্ষা, বর্ষার পর র্শ এভাবে হেমন্ত, শীত ও বসন্ত কাল আসতে থাকে। সেরকম বাংলা বারোটি মাসও আবর্তিত হতে থাকে। এই আবর্তনে প্রতিমাসের শেষ দিন অর্থ্য্ াযে দিন মাস পুর্ণ হবে সে দিনকে সংক্রান্তি বলা হয়।

এভাবে বারোটি মাসে বারোটি সংক্রান্তির মধ্যে বিশেষ ভাবে পৌষমাসের সংক্রান্তি উল্লেখযোগ্য এবং ত্পার্যপূর্ণ। সংক্রান্তি শব্দটি বিশ্লেষণ করলেও একই অর্থ পাওয়া যায়। স্ অর্থ সঙ সাজা এবং ক্রান্তি অর্থ সংক্রমন। অর্থ্য্ াভিন্ন রূপে সেজে অন্যত্র সংক্রমিত হওয়া বা নুতন সাজে, নুতন রূপে অন্যত্র সঞ্চার হওয়া বা গমন করাকে বুঝায়। মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ,কন্যা, তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ এবং মীন রাশির বারটি একটির পর আরেকটি চক্রাকারে অবর্তিত হতে থাকে। যাকে বলে রাশিচক্র।

ইসলামী দৃষ্টিতে রাশি চক্র

ইসলামের দৃষ্টিতে জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চা শুধু হারামই নয় একজন জ্যেতিষবিদের কাছে যাওয়া এবং তার ভবিষ্যদ্বাণী শোনা, জৌতিষশাস্ত্রের উপর বই কেনা অথবা একজনের কোষ্ঠী যাচাই নিষেধ। যেহেতু জ্যোতিষশাস্ত্র প্রধানত ভবিষ্যদ্বানী করার জন্য ব্যবহৃত হয়, যারা এই বিদ্যা চর্চা করে তাদের জৌতিষী বা গণক বলে গন্য করা হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন; যে গণকের কাছে যায় এবং কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে তার চল্লিশ দিন ও রাত্রির নামাজ গ্রহণযোগ্য হবে না। (শাহিন মুসলিম ট্রান্স. ভলিয়ম ৪, পৃ: ১২১১, নং ৫৫৬০) এমনকি জৌতিষের বক্তব্যের সত্যতার সন্দিহান হওয়া সত্ত্বেও একজনের শুধু তার কাছে যাওয়া এবং প্রশ্ন করার শাাস্তি এই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। যদি কেউ জৌতিষ সংক্রান্ত তথ্যদির সত্য মিথ্যার সন্দিহান হয় তবে সে আল্লাহর পাশাপাশি অন্যরাও হয়তো অদৃশ্য এবং ভবিষ্য্ স“ন্ধে জানে বলে সন্দেহ পোষণ করে। এটা এক ধরনের শিরক। কারন আল্লাহ স্পষ্ট করে বলেছেন; – ম্বম্বঅদৃশ্যের কুঞ্জি তাঁহারই নিকট রহিয়াছে, তিনি ব্যতীত কেহ জানে নাম্বম্ব (সুরা আন আনআম :৫৯)।

আল্লাহ ব্যতীয়ত আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবীতে হেতই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখেন নাম্বম্ব (সুরা আন নামল ৬৫) যতই জৌতিষ বলুক অথবা যা কিছুই জৌতিষশাস্ত্রের বইয়ে থাকুক, কেউ তার রাশিচক্রে প্রদত্ত ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বাস করলে সে সরাসরি কুফরি (অবিশ্বাস) করে। কারন রাসুল (সা) বলেছেন ম্বম্বযে একজন ভবিষ্যতদ্রষ্টা গণকের নিকট গেল এবং যে যা বলে তা বি“াস করলো, মুহাম্মদের নিকট যা অবর্তীর্ণ হয়েছিল সে তা অবিশ্বাস করলম্বম্ব (সুন্নাহ আবু দাউদ, ভলি:-৩)।

এ হাদিসে গণকের স“ন্ধে উল্লেখ করা হলেও জ্যোতিষবিদদের জন্যেও সমভাবে প্রযোজ্য। উভয়েই ভবিষ্যতের জ্ঞানের অধিকারী বলে দাবি করে। অনেকেউ তার ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য, ব্যবসায় উন্নতির জন্য কোন রোগ থেকে বাঁচার জন্য পাথরের উপর বিশ্বাস করতে শুরু করে এবং বিভিন্ন প্রকার পাথর পরিধান করা শুরু করে যেমন; রক্ত প্রবাল, ক্যাটস আই প্রভৃতি। ম্বম্ব তোমরা যদি মুমিন হয়ে থাকো,তাহলে একমাত্র আল্লাহর উপরই ভরসা করোম্বম্ব (মায়েদা: ২৩)।

যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্য আল্লাহ তালাই যথেষ্ট। (সুরা তালাক)। তথাপি, আল্লাহ কর্তৃক আল্লাহর রাসুল (সা) কে বলা হয়েছে ; ম্বম্ববল, আল্লাহ যাহা ইচ্চছা করেন তাহা ব্যতীত আমার নিজের ভালো মন্দের উপরও আমার কোন অধিকার নেই। আমি যদি অদৃশ্যের খবর জনিতাম তবে তো আমি প্রভুত কল্যানই লাভ করিতাম এবং কোন অকল্যানই আমাকে স্পর্শ করিত না। আমিতো শুধু মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদবাহী।

(সুরা আল আ রাফ : ১৮৮) সুতরাং সত্যিকার মুসলমানগণ এই সব ক্ষেত্র থেকে অনেক দুরে থাকতে নৈতিকভাবে বাধা। একই ভাবে আংটি, গলার হার ইত্যাদির উপর যদি রাশিচক্রের চি? থাকে তবে তা পরা উচিত নয়। কোন মুসলমানের রাশিচক্র কি তা জিজ্ঞাসা করার অথবা তার প্রতীক অনুমান করার চেষ্টা করাও উচিত নয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে শিরক এবং কুফর থেকে বেচে থাকার তাউফিক দান করুক। আমিন।