সৌদি আরবে ভিন্নমত দমনে গোপনীয় আদালত

351

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মানবাধিকারকর্মী ও রাজতন্ত্রবিরোধীসহ ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিচারে সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত একটি গোপন বিশেষ আদালত স্থাপন করেছে সৌদি আরব।

রিয়াদের এই বিশেষায়িত ফৌজদারি আদালতে (এসসিসি) ৯৫টি মামলার শুনানি নিয়ে পাঁচ বছর ধরে তদন্ত করে আসছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

বৃহস্পতিবার তারা জানিয়েছে, উপসাগরীয় দেশটি সম্প্রতি একটি সংস্কারবাদী চরিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করলেও ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমনে ওই আদালতকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।-খবর গার্ডিয়ানের

২০১১ সাল থেকেই এসসিসিতে সন্ত্রাসবাদ ও সাইবার অপরাধবিরোধী বিচার হয়ে আসছে। এতে অন্যায় বিচারের শিকার হচ্ছেন মানবাধিকারকর্মী, লেখক, অর্থনীতিবিদ, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতা, সংস্কারপন্থী, রাজনৈতিককর্মী ও শিয়া সংখ্যালঘুরা।

তাদের কখনও ৩০ বছর কিংবা মৃত্যুদণ্ডের সাজাও দেয়া হয় এই আদালতে। অ্যামনেস্টির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক হেবা মোরায়েফ বলেন, এই আদালতের বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিটি স্তর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কলঙ্কিত। আটকদের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, নির্জন কারাবাস ও নির্যাতন করে বের করে নিয়ে আসা জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করেই সাজা দেয়া হচ্ছে।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উত্থানের পর বেশ কিছু সামাজিক সংস্কার শুরু করে দিয়েছে সৌদি আরব। নারীদের গাড়ি চালাতে অনুমতি, মরালিটি পুলিশের ক্ষমতার লাগাম ধরা ও পুরুষ অভিভাবক ছাড়াই নারীদের স্বাধীনভাবে ভ্রমণের সুযোগ দেয়া হয়েছে।

কিন্তু এসবের পাশাপাশি ভিন্নমতের দমনপীড়নও চলছে পুরোদমে। ২০১৮ সালে ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার পর সৌদির মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে ফলাও করে প্রচার হয়েছে।

আল কায়েদাকে সমর্থক ও তাদের সদস্যদের বিচারে ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এসসিসি। কিন্তু আদালতের নথি ঘেঁটে অ্যামনেস্টি বলছে– মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে আদালতটি এখন প্রহসনের বিচারে পরিণত হয়েছে। এখন বিচারের লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে, বাকস্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক তৎপরতাকে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে– নির্যাতন করে আদায় করা জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করেই অধিকাংশ রায় দেয়া হচ্ছে বলে তদন্তে দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত এই আদালতে অন্তত ২০ জনের শিরশ্ছেদের রায় দেয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৭টি কার্যকর করাও হয়েছে।

সৌদি আরবের শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ কাতিফপ্রদেশে বিক্ষোভের দায়ে গণবিচারে হুসাইন আল-রাবি নামে একজনকে শিরশ্ছেদের রায় দিয়েছিলেন এ আদালত। গত বছর যা কার্যকর করা হয়েছে।

কিন্তু শুনানিতে তিনি আদালতকে বলেছিলেন– জেরাকারী তার কাছ থেকে জবানবন্দি আদায় করতে ঝুলিয়ে মারধর ও বৈদ্যুতিক শক দিয়েছে। এর পরে তিনি যদি কথা বলতে অস্বীকার করতেন, তখন খাবার ও পানি থেকে বঞ্চিত রাখা হতো তাকে।