নোবেলজয়ী হ্যান্ডকাকে ‘অগ্রণযোগ্য ব্যক্তি’ ঘোষণা কসোভোর

240

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বর্ণবাদী লেখক পিটার হ্যান্ডকাকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছেই। তারই অংশ হিসেবে বুধবার কসোভোয় তাকে অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি বা পারসোনা নন গ্রাটা ঘোষণা করা হয়েছে।

চলতি বছরে হ্যান্ডকাকে সাহিত্যে নোবেলের জন্য সুইডিশ অ্যাকাডেমি মনোনীতি করলে বলকানদের নিয়ে তার পুরনো ক্ষত নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমন তথ্য জানা গেছে।

যুগোস্লাভিয়ার রক্তাক্ত পতনের সময় সার্বদের নৃশংসতার পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছিলেন এই লেখক। তাকে পুরস্কার দেয়ার প্রতিবাদে নোবেল কমিটির এক সদস্য পদত্যাগও করেছেন।

তার হাতে পুরস্কার তুলে দিতে মঙ্গলবারে নোবেল কমিটির অনুষ্ঠান বর্জন করেছে আলবেনিয়া, বসনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, কসোভো, উত্তর ম্যাসেডোনিয়া ও তুরস্ক।

ফেসবুকে এক মন্তব্যে কসোভোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাহজাত বাকুলি বলেন, আজ আমি ঘোষণা দিতে যাচ্ছি যে পেটার হ্যান্ডকাকে কসোভোয় স্বাগত জানানো হবে না। এখন তিনি পারসোনা নন গ্রাটা।

বাহজাত আরও বলেন, ভয়াবহ অপরাধের সমর্থন করায় তার বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কসোভোর নৃতাত্ত্বিক আলবোনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকজনের মধ্যে এই লেখক খুব একটা জনপ্রিয় কেউ নন। ১৯৯৮-৯৯ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তারা বেলগ্রেডদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। এতে ১২ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

কিন্তু এই লেখক প্রায়ই সার্বদের ছোট্ট ছিটমহল ভেলিকা হোকায় অতিথি হিসেবে যেতেন। সার্বীয়দের সাবেক প্রদেশটিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সার্ব সম্প্রদায়ের ছোট্ট একটা অংশ এই ছিটমহলে বসবাস করছেন।

হ্যান্ডকা অন্তত পাঁচবার এই ছিটমহলটিতে সফরে ছিলেন। এসময় সম্প্রদায়ের ৫০০ লোককে এক লাখ ইউরো দান করেছিলেন তিনি। দক্ষিণাঞ্চলীয় কসোভোর উঁচুনিচু পাহাড়ের পদদেশে এটির অবস্থান।

২০১৪ সালের সফরের সময় এই লেখক বলেন, অনেক বড় সমস্যায় জর্জরিত হলেও এখানে জীবনের ছন্দ খুবই চমৎকার। এখানে আমি একা হতে পারি, আবার হারিয়েও যেতে পারি। পাহাড়ের আড়ালে আমি হেঁটে বেড়াতে পারি।

হ্যান্ডকার নোবেলপ্রাপ্তি বসনীয় মুসলমানদের জন্যও বেদনাদায়ক। স্রেব্রেনিৎসায় গণহত্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

১৯৯৫ সালে আট হাজার মুসলমানকে হত্যা করে সার্বীয়রা। বুধবার বসনীয় রাজধানীতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সেখানে আঞ্চলিক সরকার জানায়, তার উপস্থিতি যুদ্ধ আক্রান্তদের অবমাননা ও ক্ষোভ উসকে দিতে পারে।

কিন্তু এখনো তিনি বসনীয় অঞ্চলের পাশ্ববর্তী সার্বদের পরিচালিত অঞ্চলে অভ্যর্থিত। মঙ্গলবার একটি গণমাধ্যমকে হ্যান্ডকা বলেন, আগামী বসন্তে তিনি ওই অঞ্চলে সফরে যাবেন।

সমালোচকরা বলেন, যুদ্ধাপরাধী মিলোসেভিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় সময় বক্তব্য দিয়ে তার প্রতি নিজের আনুগত্য স্পষ্ট করেছেন হ্যান্ডকা। দ্য হেগ শহরে আন্তর্জাতিক আদালতে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে তার বিরুদ্ধে বিচার চলার সময় ২০০৬ সালে তিনি মারা যান।

১৯৯৭ সালে ‘এ জার্নি টু দ্য রিভারস: জাস্টিস ফর সার্বিয়া’ নামে একটি বই লিখেছেন। সেখানে সার্বদের যুদ্ধাপরাধকে কম গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।