শাবি থেকে ৪ ছাত্রলীগ কর্মী বহিষ্কার; যৌন হয়রানির অভিযোগ

918

সিলেট সংবাদদাতা: সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার ছাত্রলীগকর্মীকে এক সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানি এবং এর প্রতিবাদ করায় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া ঘটনার সময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন না করার কারণে শাখা ছাত্রলীগের (স্থগিত কমিটি) সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থকে সতর্ক করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বহিষ্কৃতরা হলো- সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান রুদ্র, পরিসংখ্যান বিভাগের মো. সাজ্জাদ হোসেন রিয়াদ, নৃবিজ্ঞান বিভাগের রাহাত সিদ্দিকী, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের সুমন সরকার জনি। এদের প্রত্যেককে এক সেমিস্টার করে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রাহাত এবং সুমনকে বহিষ্কারের পাশাপাশি এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। তারা সকলেই ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থের অনুসারী। গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত ২০৫তম সিন্ডিকেট সভায় ভিসি অধ্যাপক আমিনুল হক ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বহিষ্কারের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। রেজিস্ট্রার আরো জানান, বহিষ্কারাদেশ আজ রোববার থেকেই কার্যকর হবে।

এ সময়টাতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে যাবতীয় নির্দেশনা পাঠানো হবে। এদিকে এ ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন হামলার শিকার সাংবাদিকগণ। এ বিষয়ে সরদার আব্বাস আলী বলেন, সাংবাদিক নির্যাতন এবং যৌন হয়রানির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।’ ভবিষ্যতে অপরাধ করে কেউ যেন ছাড় না পায় সেদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সজাগ থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অধ্যাপক ড. জহির বিন আলমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সহকারী প্রক্টর জাহিদ হাসান, শাকিল ভূঁইয়া, কৌশিক সাহা ও গোলাম মর্তুজা।

এছাড়া ছাত্রলীগকর্তৃক যৌন হয়রানির ঘটনায় ছাত্রীর মা বাদী হয়ে মামলা করলে, সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয় এবং ঘটনাটি প্রমাণিত হয়। পরে ছাত্রলীগের (স্থগিত কমিটি) সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত। এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেও এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ছাত্রলীগের তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি।