আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের ইসলামিক ইন্সটিটিউটের প্রেসিডেন্ট শেখ আবদুর রাকিব বিন তৈমুর বলেছেন, দেশটিতে সংখ্যালঘু উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়নের খবর সত্য নয়। তিনি বলেন, এই দেশে সবাই নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন।
চীনা এই ধর্মীয় নেতা বলেন, দেশটিতে রাজনীতিকে ধর্মের প্রভাবমুক্ত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এই দেশে ধর্ম চলে ধর্মের মতো আর রাজনীতি চলে তার গতিতে। ধর্মকে ব্যবহার করে কেউ রাজনীতি করে না। চীনে ধর্ম পালনে কোনও বাধা নেই বলেও জানান তিনি। শেখ আবদুর রাকিব বলেন, কেউ ধর্মের কাজে নিয়জিত থাকলে সে ক্ষমতাসীন দলের সদস্য হতে পারেন না। এমনকি রাজনীতিও করতে পারেন না।
চীনে ১৩৩ কোটি ৬৭ লাখের বেশি জনসংখ্যার মধ্যে দুই কোটির বেশি মুসলমান রয়েছে। এর মধ্যে শিংজিয়াং প্রদেশে বসবাস করে ১০ লাখের বেশি মুসলিম। মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা সরকার ইসলামিক ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে করে জানান ইন্সটিটিউটের প্রেসিডেন্ট শেখ আবদুর রাকিব।
তিন লাখ স্কয়ার মিটার জায়গার ওপর ইসলামিক ইন্সটিটিউট, কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক ডরমেটরি। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এখানে বিনামূল্যে থাকা খাওয়া করে বলেও জানান প্রতিষ্ঠানের প্রধান। তিনি বলেন, এখানে শুধু বিনা বেতনে পড়াশোনাই করানো হয় না। খাবারও বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। একই সাথে প্রতি শিক্ষার্থীকে মাসে ৬০০ ইউয়ান অর্থাৎ স্থানীয় ভাষার আরএমবি প্রদান করা হয়। বাংলা সাত হাজার ৬৮০ টাকা উপবৃত্তি প্রদান করা হয়।
মূল ইসলামিক ইন্সটিটিউটের আটটি ক্যাম্পাসে মোট তিন হাজার ৯০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। শিংজিয়াংয়ের ইসলামিক ইন্সটিটিউটের প্রধান শেখ আবদুর রাকিব আরটিভি অনলাইনকে জানান, প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় উইঘুর ছাড়াও ১৩টি মুসলিম জাতিগোষ্ঠী পড়াশোনা করে এই প্রতিষ্ঠানে।
ইসলামিক ইন্সটিটিউটে শিক্ষার্থীদের তিনটি বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করা হয়- ইসলাম ধর্ম শিক্ষা, ইতিহাস ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি এবং আইন কানুন। বিজ্ঞান, গণিতসহ অন্যান্য বিষয় কেন পড়ানো হয় না- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানের প্রধান বলেন, মুসলিমরা মূলত মসজিদ-মাদরাসাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে; তাই অন্যান্য বিষয়ে পাঠদান করা হয় না।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শুধু ছেলে শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কোনও নারী শিক্ষার্থী দেখতে না পেয়ে এই প্রতিবেদক কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করলে কর্তৃপক্ষ জানায়, নারীরা মসজিদ-মাদরাসায় কাজ করে না তাই তাদের স্থান হয় না এসব প্রতিষ্ঠানে। তবে আশ্চর্য করা বিষয় হলো বেশির ভাগ ক্লাসরুমে নারী শিক্ষকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
ইসলামিক ইন্সটিটিউটে ছয় মাসের ডিপ্লোমা তিন বছরের ডিগ্রি এবং চার বছরের অনার্স কোর্স চালু আছে। তবে কেউ উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহী হলে রাজধানী বেইজিংয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান শেখ আবদুর রাকিব। কেউ উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করলে তাকে সরকার তাকে এককালীন ১০ হাজার ইউয়ান প্রদান করে বলেও জানান তিনি।















