‘জাপার বিরোধীদলীয় দৃষ্টান্ত অন্য দেশগুলোর গ্রহণ করা উচিত’

1086

ঢাকা সংবাদাদতা: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা সরাজ বলেছেন, জাতীয় পার্টি বিরোধী দলে থেকেও সরকারের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত। বিরোধী দল মানে শুধু বিরোধিতাই করবে- সরকারের সঙ্গে কোনও দায়িত্ব পালন করতে পারবে না- এই প্রচলিত ধারা থেকে জাতীয় পার্টি বেরিয়ে আসতে পেরেছে- এটা আমার (সুষমা) কাছে খুবই ভালো লেগেছে। এই দৃষ্টান্ত আগামীতে অন্য গণতান্ত্রিক দেশগুলোর গ্রহণ করা উচিত।

জানালেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, তার দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভারত সফরে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে তাদের নৈতিক সমর্থন সবসময় অব্যাহত থাকবে এবং ভারত সবসময়ই বাংলাদেশে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করে।

জাপার মহাসচিব দাবি করেন, ভারতীয় নেতারা আশ্বাস দিয়েছেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে তাদের নৈতিক সমর্থন সবসময় অব্যাহত থাকবে। আলোচনাকালে ভারতের নেতারা বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে চলায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ভারত সফর সম্পর্কে জাপা মহাসচিব জানান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে পার্টির পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সফর করেন। এই সফরে এরশাদের সঙ্গে ছিলেন তিনি (রুহুল আমিন হাওলাদার) সহ প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সুনীল শুভরায় ও মেজর (অব.) মো. খালেদ আখতার।

তিনি বলেন, এই সফরটি ছিল আমাদের জন্য অত্যন্ত সম্মানের এবং গুরুত্বপূর্ণ। এই সফরে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত ছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লিতে না থাকার কারণে তার সঙ্গে বৈঠক হয়নি। তবে তার পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমরা ২২ জুলাই বিকাল ৪টায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সঙ্গে তার বাসভবনে বৈঠক করেছি। এক ঘণ্টারও বেশি সময় আমরা পারস্পারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা বলেছি।’

তিনি আরও জানান, ২৩ জুলাই দুপুর দেড়টায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা সরাজের সঙ্গে আমাদের ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়েছে। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় ভারতের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে তার বাসভবনে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তিনটি বৈঠকই অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের শীর্ষ স্থানীয় ওই তিন নেতার সঙ্গে প্রায় অভিন্ন বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।