ভারত থেকে এক বালতি পানিও আনতে পারেনি: সরকারের উদ্দেশে রিজভী

672

ঢাকা সংবদদাতা: গত ৯ বছরে শেখ হাসিনার সরকার ভারত থেকে এক বালতি পানিও আনতে পারেননি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানী নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা এ মন্তব্য করেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আগামীকাল শুক্রবার দুই দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ হাইকমিশনারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন এবং বিশ্বভারতীর সমাবর্তনে অংশ নেবেন। এ ছাড়া শনিবার আসানসোলে কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি গ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনো আলোচনা হবে কিনা তা নিয়ে কলকাতা উপ-দূতাবাস বা সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।

বিষয়টি উল্লেখ করে আজকের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘বিগত নয় বছর ধরে আওয়ামী লীগ ঘোষণা দিয়ে আসছে যে, তারা ভারতের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি করতে যাচ্ছে। বন্ধুত্বের এত দহরম মহরম। অথচ শেখ হাসিনা ভারত থেকে এক বালতি পানিও আনতে পারেননি আট বছরে। কিন্তু বছর যায় বছর আসে, আর বাংলাদেশ অবৈধ সরকার শুধু একতরফাভাবে ভারতকে সবকিছু দিয়েই যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ন্যায্য পানির হিস্যা বুঝে পাচ্ছে না।’

‘শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকতে সার্বভৌমত্বকে ক্ষয়িষ্ণু করে ভারতকে সব কিছু উজাড় করে দিয়ে যাচ্ছেন, বিনিময়ে কিছুই পাননি। শুধুমাত্র পরদেশের কাছে সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ে পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছেন শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকা।’

‘বিরোধী নিধন ক্রসফায়ারের অপ্রকাশ্য এজেন্ডা’:

বিএনপির এ নেতা মাদকবিরোধী অভিযানের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যারও সমালোচনা করেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজলকে গত দুদিন ধরে খুঁজে পাওয়া পাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই তাঁকে তুলে নিয়ে গেছে বলেও আশঙ্কা করেন।

রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম-খুনের প্রতিযোগিতায় মূলত বিরোধী দল নিধনই হচ্ছে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য এজেন্ডা। এমন পরিস্থিতিতে সজলের নিখোঁজের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং একই সূত্রে গাঁথা।’

মাদক নির্মূলে সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি এ নেতা বলেন, ‘আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দল নিধনের জন্যই মাদকবিরোধী অভিযানের নামে দেশজুড়ে বিচারবহির্ভূত মানুষ খুনের জোরেশোরে ধুমধাম চলছে। বেআইনি হত্যার মাধ্যমে দেশবাসীকে আতঙ্কিত করার ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে। যাতে তাঁরা অবৈধ সরকারের অনাচারের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহসী না হয়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো আরেকটি ভোটারবিহীন নির্বাচন করাই তাদের নীলনকশা।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, নিতাই রায় চৌধুরী, খায়রুল কবির খোকন, মীর সরাফত আলী সপু, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।