ঝিনাইদহে আওয়ামী লীগ এমপির বিরিয়ানি খেয়ে অসুস্থ দুই শতাধিক

794

ঢাকা সংবাদদাতা: আগামী সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী পারভিন তালুকদার মায়ার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পারভিন তালুকদার মায়ার জনসভায় বিরিয়ানি খেয়ে এবার দুই শতাধিক লোক অসুস্থ হয়েছে। বুধবার বিকালে কোটচাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডে কর্মিসভায় দেওয়া ওই বিরিয়ানি খেয়ে মায়া নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন। এর কারণ খুঁজতে একটি তদন্ত কমিটি করেছে পুলিশ।

বুধবার শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য মনোনয়ন প্রত্যাশী পারভীন তালুকদার মায়া কোটচাঁদপুর মেইন বাসস্ট্যান্ডে এক কর্মী সভার আয়োজন করে। তার আগে তিনি মোটর সাইকেল, আলমসাধু ও গাড়িসহ শোডাউন করেন। সমাবেশ শেষে আগত নেতাকর্মীদের মাঝে বিরিয়ানির প্যাকেট বিতরণ করা হয়।

বিরিয়ানি খেয়ে রাত থেকে অসুস্থ হতে শুরু করে লোকজন। তারা পেটে ব্যথা, বমি ও পায়খানায় আক্রান্ত হতে থাকে। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত কোটচাঁদপুর হাসপাতালে একশ’ ৪০ জনকে ও কালীগঞ্জ হাসপাতালে ৫ জনকে ভর্তি করা হয়। অন্য আক্রান্তরা গ্রাম্য ডাক্তার, ক্লিনিক ও বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা যায়।

কোটচাঁদপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মামুনশিয়া গ্রামের মোশারফ হোসেন বলেন, সভা শেষে তিনি এক প্যাকেট বিরিয়ানি পান। খাওয়ার পর রাত ৮টার দিকে পেটব্যথা, বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। এরপর স্বজনরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।

গোবিন্দপুর গ্রামের শামসুল ইসলাম দুই প্যাকেট বিরিয়ানি পেয়েছিলেন জানিয়ে বলেন, বাড়ি ফিরে স্ত্রীসহ পরিবারের পাঁচজন মিলে সেটা খান। এরপর রাত ৩টার দিকে বমি ও পায়খানা শুরু হয় সবার।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংরক্ষিত আসনের সাবেক সাংসদ পারভিন তালুকদার মায়া বলেন, আগামী নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তিনি গণসংযোগ করছেন। এর অংশ হিসেবেই নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে কর্মিসভা ও জনসভা করছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোটচাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডের কর্মিসভা শেষে পাঁচ হাজার প্যাকেট বিরিয়ানি বিতরণ করা হয়েছিল। আমার মহেশপুরের বাসায় স্থানীয় বাবুর্চি দিয়ে ওই বিরিয়ানি রান্না করা হয়েছে। এটা খেয়ে আমি নিজেও অসুস্থ হয়েছি।

বৃহস্পতিবার কোটচাঁদপুর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হঠাৎ অতিরিক্ত রোগীর ভিড় বেড়ে যাওয়ায় নার্স-চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন। বিছানার অভাবে অনেক রোগীদের রাখা হয়েছে মেঝে ও সিঁড়িতে।

কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহাব উদ্দিন বলেন, হাসপাতালে আগতরা খাদ্যে বিষক্রিয়াতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত ১৪০ জন ভর্তি হয়েছেন।

এছাড়া, গত মঙ্গলবার ওই নেত্রীর মহেশপুরে সমাবেশে শেষে দেওয়া বিরিয়ানি খেয়ে শ’ খানেক লোক খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়। ৭০ জনকে মহেশপুর, কোটচঁদপুর ও জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, পরপর দুটি জনসভার বিরিয়ানিতে কেন সমস্যা তৈরি হল তা খতিয়ে দেখতে তারা একটি তদন্ত কমিটি করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কনক কুমার দাসকে প্রধান করে গঠিত পাঁচ সদস্যের এ কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

কোটচাঁদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শরিফুননেছা মিকি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, বিরিয়ানী খাওয়াকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে কোটচাঁদপুরে। মানুষ মরতে বসেছে। আমরা ধিক্কার জানাই। এই ঘৃণিত কাজ যেই করুন একটি পরিকল্পিত এবং আওয়ামী লীগকে হেয় করার একটি চক্রান্ত। এই পরিকল্পনাকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদে কালো পতাকা নিয়ে মানববন্ধন করেছে পৌর আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে কোটচাদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, এটা দায়িত্বহীনতার পরিচয়। তা কোনোভাবেই মানা যায় না। এর সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচার করতে হবে।