খেলাধুলা ডেস্ক : চোটের কারণে আগের ম্যাচে খেলতে পারেননি। আজ ফিরেই দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করলেন রস টেলর। খেললেন অপরাজিত ১৮১ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। তাতে চতুর্থ ওয়ানডেতে ৩৩৬ রান তাড়া করে ইংল্যান্ডকে হারাল নিউজিল্যান্ড। ৫ উইকেটের জয়ে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ২-২ সমতা ফিরিয়েছে কিউইরা।
ডানেডিনের ইউনিভার্সিটি ওভালে আগে ব্যাট করতে নেমে জনি বেয়ারস্টো ও জো রুটের সেঞ্চুরিতে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৩৫ রান করেছিল ইংল্যান্ড। জবাবে ২ রানেই দুই ওপেনারকে হারায় নিউজিল্যান্ড। তবে টেলরের ১৪৭ বলে ক্যারিয়ার সেরা ১৮১ রানের ইনিংসে ৩ বল বাকি থাকতে জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে নিউজিল্যান্ড। আগামী শনিবার ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে হবে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। তিন ওভারের মধ্যে ফেরেন দুই ওপেনার কলিন মানরো ও মার্টিন গাপটিল। রানের খাতা খুলতে পারেননি দুজনের কেউই! মার্ক উডের কিছুটা দেরিতে সুইং করা বলে এলবিডব্লিউ মানরো। ৯ বলে রানের খাতা খুলতে না পারার চাপটা চেপে বসেছিল গাপটিলের ওপর। ডানহাতি ব্যাটসম্যান ক্রিস ওকসের বলে ক্যাচ দেন মিড উইকেটে। স্কোর তখন ২ উইকেটে ২!
এরপরই শুরু টেলরের লড়াই। প্রথমে অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে সঙ্গে নিয়ে ৮৪ রানের জুটিতে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন। উইলিয়ামসন ৪৫ রান করে বেন স্টোকসের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে ভাঙে এ জুটি। এরপরই টম ল্যাথামের সঙ্গে ১৮৭ রানের বিশাল জুটি গড়েন টেলর। তাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও চলে যায় নিউজিল্যান্ডের হাতে।
এ জুটি গড়ার পথেই টেলর ক্যারিয়ারের ১৯তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৯৮ বলে। সেঞ্চুরির পর ঝুঁকিপূর্ণ দুই রান নিতে গিয়ে ঊরুতে চোট পান টেলর। ইনিংসের শেষ এক-তৃতীয়াংশ তাই ‘এক পায়ে’ খেলতে হয়েছে তাকে। খুড়িয়ে খুড়িয়ে খেলা টেলরকেও থামাতে পারেনি ইংল্যান্ড।
ল্যাথাম ৭১ রান করে যখন ফিরলেন, ততক্ষণে টেলর দেড়শ পেরিয়ে গেছেন। তখন ৪৮ বলে নিউজিল্যান্ডের দরকার ৬৩ রান। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের সঙ্গে ৩০ ও হেনরি নিকোলসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৩৬ রানের জুটিতে সেই কাজটা সেরেছেন টেলর। ১২ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ডি গ্র্যান্ডহোমের ২৩ রানের ইনিংসটিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
শেষ ১২ বলে ১৩ রানের প্রয়োজনে ৪৯তম ওভারে ওকসের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে জয়ের পথটা সহজ করে দেন টেলর, এই ওভার থেকে আসে ১০। শেষ ওভারে নিকোলস টম কুরানের প্রথম দুই বল ‘ডট’ দিলেও তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন। ১৪৭ বলে ১৭ চার ও ৬ ছক্কায় অপরাজিত ১৮১ রানের ইনিংসটি সাজান ম্যাচসেরা হওয়া টেলর। ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন নিকোলস।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৭৭ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ইংল্যান্ডকে ভালো সূচনা এনে দেন জেসন রয় ও বেয়ারস্টো। রয় ৪২ রান করে ইশ সোধির বলে মিচেল স্যান্টনারকে ক্যাচ দিলে ভাঙে এ জুটি। দ্বিতীয় উইকেটে বেয়ারস্টো ও রুট গড়েন ১৯০ রানের বিশাল জুটি। ইংল্যান্ড চারশ রান করবে বলেই মনে হচ্ছিল তখন।
কিন্তু বেয়ারস্টো-রুট জুটি ভাঙার পরই ধসে পড়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ। ১ উইকেটে ২৬৭ থেকে ইংল্যান্ডের স্কোর হয়ে যায় ৯ উইকেটে ৩১৩। ৪৬ রানেই নেই ৮ উইকেট! বেয়ারস্টো ১০৬ বলে ১৪ চার ও ৭ ছক্কায় করেন ১৩৮। রুট ১০১ বলে করেন ১০২। শেষ দিকে কুরানের ১০ বলে অপরাজিত ২২ রানের সুবাদে ৩৩৫ রান করতে পারে ইংল্যান্ড।
ক্যারিয়ার সেরা ৫৮ রানে ৪ উইকেট নেন সোধি। ট্রেন্ট বোল্ট ও মানরো নেন ২টি করে উইকেট। টিম সাউদির ঝুলিতে জমা পড়ে একটি উইকেট।
নিউজিল্যান্ডের জয়ের নায়ক টেলরের সিরিজে সেঞ্চুরি হলো দুটি। প্রথম ম্যাচে করেছিলেন ১০৩ রান। আজ ১৮১ রানের ইনিংসের পথে নাথান অ্যাস্টলকে (৭০৯০) ছাড়িয়ে ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও হয়ে গেছেন টেলর (৭২৬৭)। তার ওপরে শুধু স্টিফেন ফ্লেমিং (৮০০৭)।















