আওয়ামী লীগের ৬০ শতাংশ ভোট কমেছে: আমীর খসরু

624

ঢাকা সংবাদদাতা: ‘রংপুর সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ৬০ শতাংশ ভোট কমেছে, আর বিএনপির ৪০ শতাংশ ভোট বেড়েছে। এই অনুপাতটা সারাদেশে চিন্তা করেন। আমি আওয়ামী লীগের একটি আসনও জেতার কারণ দেখতে পাচ্ছি না।’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন আয়োজিত ‘রাজনীতি-স্বার্থ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা: প্রতিবেশীর ভূমিকা’ শীর্ষক এক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন তিনি।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘রংপুর জাতীয় পার্টির পকেট এটা সকলেই জানেন। কাজেই এখানে জাতীয় পার্টির জেতা বড় বিষয় নয়। জনগণের মধ্যে যে পরিবর্তন হয়েছে যেটা লক্ষনীয়। আগামী নির্বাচনে এর প্রতিফলন ঘটবে। আর তা হলে বিএনপি শুধু জয়ীই হবে না, বিশালভাবে জয়ী হবে’।

ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সর্ম্পকের মিলন ঘটাতে হবে দুই দেশের মানুষের মিলনের মাধ্যমে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র না থাকলে পাশ্ববর্তী দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আমীর খসরু বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রজেক্টের একটি অংশ। এই প্রজেক্টের কাজ হলো, বাংলাদেশের জনগণকে নির্বাচনের বাইরে রেখে ক্ষমতা দখল। এই প্রজেক্টের আওতায় তারা অনেকগুলো ঘটনা ঘটাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে গুম, ক্রসফায়ার, মিথ্যা মামলা, জেল, মানুষকে পঙ্গু করা, এলাকা ভিত্তিক সন্ত্রাসী সৃষ্টি, সম্পদ ও ব্যবসা দখল করা। সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট হচ্ছে, বেগম জিয়াকে আগামী নির্বাচনে বাইরে রাখা। আর এই প্রজেক্টকে সফল করার জন্যই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা।’

তিনি আরো বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির সঙ্গে খালেদা জিয়ার কোনেও সম্পৃক্ততা নেই। এটা জেনে শুনেও সরকার সেই পথেই যাচ্ছে। কারণ তাদের আর কোনও পথ নেই। আমি বলতে চাই, সে পথে সরকার না গেলেই তাদের জন্য ভালো হবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০১৮ সাল হবে গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা, আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে আনার বছর। আপনারা যদি এ বিরুদ্ধে যান এর দায় দ্বায়িত্ব আপনাদেরকে নিতে হবে। এর জন্য সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে।

জাতীয়তাবাদী দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন কূটনৈতিক সিরাজুল ইসলাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ দিলারা চৌধুরী, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, জিনাফের সভাপতি মিয়া মো. আনোয়ার প্রমুখ।
সূত্র: আরটিএনএন