সাইফ হাসান: ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে কা*রাগারগুলোর চাপ কমাতে আগাম মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে হচ্ছে। তীব্র আবাসন সংকটের কারণে বহু কা*রামুক্ত ব্যক্তি বাধ্য হয়ে ‘হোমলেস’ অবস্থায় রাস্তায় আশ্রয় নিচ্ছেন। দাতব্য সংস্থা ও প্রবেশন কর্মীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, শীত নামার মুখে এই পরিস্থিতি এক গভীর মানবিক বিপর্যয় তৈরি করছে। বড়দিনের আগে দেশটিতে গৃহহীনতা দূর করার সরকারি মহাপরিকল্পনায় এটি একটি বড় ধরনের ফাঁক হিসেবে ধরা পড়েছে। উপযুক্ত আশ্রয়ের অভাবে বাধ্য হয়ে অনেকেই আবার কা*রাগারের ভেতরেই ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন।
সোমারসেটের ৩৭ বছর বয়সী জেমস নামের এক ব্যক্তি জানান, চার দিনের মাথায় তিনি পুরোপুরি আশ্রয়হীন হতে যাচ্ছেন। গত আগস্টে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি অস্থায়ী প্রবেশন আবাসনে ছিলেন, যা এখন শেষ হতে চলেছে। কোনো কাউন্সিল বা প্রতিষ্ঠান থেকে থাকার জায়গা না পেয়ে তিনি তীব্র হতাশা প্রকাশ করেন এবং কনকনে ঠান্ডায় রাস্তায় থাকার চেয়ে পুনরায় কারাগারে চলে যাওয়াই ভালো বলে মন্তব্য করেন।
প্যাক্ট নামের একটি দাতব্য সংস্থার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত তিন বছরে যুক্তরাজ্যে কারাগার থেকে বের হয়ে সরাসরি রাস্তায় আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা ১৩০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২-২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৪০, যা ২০২৫-২৬ সালে বেড়ে প্রায় ১৪ হাজার ৩৬০ জনে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রতি সাতজন বন্দীর মধ্যে একজন সরাসরি খোলা রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন এবং যাদের কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই এমন হোমলেস মানুষের অনুপাত বেড়ে প্রায় ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
প্রবেশন কর্মীদের সংগঠন নেপোর প্রতিনিধি তানিয়া ব্যাসেট বলেন, অক্টোবরে বন্দীদের আগাম মুক্তির পর প্রায় সব আবাসন ইতোমধ্যেই পূর্ণ হয়ে গেছে। আগামী ১০ নভেম্বর নতুন করে আরও বহু বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে, যা কর্মীদের ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অ্যান্ডি বার্নহাম আগামী ক্রিসমাসের মধ্যে গৃহহীনতা দূর করার লক্ষ্যে প্রায় ৮৭ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড বরাদ্দের পরিকল্পনা ঘোষণা করলেও, বন্দীদের পুনর্বাসনে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকাকে একটি মারাত্মক ত্রুটি বলে অভিহিত করেছেন গবেষকরা।
এদিকে জেমসের মতো ব্যক্তিদের ওপর সার্বক্ষণিক জিপিএস ট্র্যাকার ও অ্যালকোহল মনিটরিং ট্যাগ ব্যবহারের কড়া শর্ত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো স্থায়ী ঠিকানা বা চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা ছাড়া রাস্তায় থেকে এসব শর্ত কীভাবে মানা সম্ভব, তা নিয়ে কোনো সদুত্তর মিলছে না। তবে স্থানীয় সোমারসেট কাউন্সিল এবং সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা প্রবেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছেন এবং কারাগার থেকে বের হওয়া হোমলেস ব্যক্তিদের চাকরি ও পুনর্বাসনে সহায়তা দিতে বিভিন্ন সংস্থার সাথে যৌথ পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
#যুক্তরাজ্যনিউজ #হোমলেস #কাউন্সিল #aknews #onebanglanews















