লন্ডনের স্কুল সমূহে মোবাইল নি*ষিদ্ধ হতেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বড় পরিবর্তন

98

সাইফ হাসান: শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর নি\ষি*দ্ধাজ্ঞা জারির পর দেখা যাচ্ছে অভূতপূর্ব পরিবর্তন। ফোন কাছে থাকলেও বিশেষ পাউচে সিল করে রাখা হচ্ছে পুরো স্কুল সময়। ফলে সোশ্যাল মিডিয়া বা গেমসের বদলে শিক্ষার্থীরা এখন নিজেদের মধ্যে সরাসরি কথা বলছে এবং পড়াশোনায় মন দিচ্ছে। ব্রিটেনের বিদ্যালয়গুলোতে কার্যকর হওয়া এই নিয়ম ইতোমধ্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

গত জুন মাস থেকে ইংল্যান্ডের সমস্ত স্কুলে মোবাইল ফোন নি\ষি*দ্ধ করার সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়। চেশায়ারের আলসেগার স্কুলসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ফোন বিশেষ ধরনের ম্যাগনেটিক পাউচে লক করে রাখা হচ্ছে, যা ছুটি না হওয়া পর্যন্ত খোলার কোনো সুযোগ থাকে না। এর ফলে ফোন সাথে থাকার পরও শ্রেণিকক্ষে বা ওয়াশরুমে বসে মোবাইল ব্যবহারের কোনো উপায় থাকছে না।

শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মতে, এই নিয়মের ফলে শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ অনেক প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, ঘনঘন নোটিফিকেশন দেখার সুযোগ না থাকায় ক্লাসে মনোযোগ অনেক বেড়েছে এবং তারা একে অপরের সাথে সামনাসামনি আড্ডা দিচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অ্যান্ড্রিয়া ওনিল জানান, প্রথমদিকে সামান্য কিছু জটিলতা থাকলেও বর্তমানে পুরো প্রক্রিয়াটি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।

চেশায়ারের পুলিশ অ্যান্ড ক্রাইম কমিশনার ড্যান প্রাইস এই পাউচ বিতরণে সহায়তা করছেন এবং তিনি জানান, এটি বিদ্যালয়গুলোকে আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ করে তুলেছে। তিনি ২০২৩ সালে পার্কের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া এক কিশোরীর মা এস্থার ঘির সাথে যৌথভাবে শিশুদের জন্য মোবাইল ও ইন্টারনেটের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে এই প্রচারণায় কাজ করছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সারাদিনে ছয় থেকে আট ঘণ্টা ডিজিটাল দুনিয়া থেকে দূরে থাকা শিশুদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশ ও সামাজিক যোগাযোগ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে।

#aknews #onebanglanews #ব্রিটেনসংবাদ #শিক্ষাখবর #আন্তর্জাতিকসংবাদ