স্ত্রী হত্যায় দণ্ডপ্রাপ্ত গ্লিনের মুক্তি স্থগিতের আবেদন!

45

সাইফ হাসান: ২০০২ সালে স্ত্রী লিন্ডা রাজেলকে হ*ত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত গ্লিন রাজেলের প্যারোলে মুক্তির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার না হওয়া সত্ত্বেও প্যারোল বোর্ড তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তির সিদ্ধান্ত দিয়েছিল। নিহতের বর্তমান সঙ্গী আদালতকে জানিয়েছেন, ঘাতক গ্লিন মৃ*ত্যুর পরও পরিবারকে মানসিকভাবে নির্যাতন ও নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছেন। বিচারক জানিয়েছেন, আবেদনের সার্বিক রায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা করা হবে।

২০০২ সালে সোমারসেটের বাসিন্দা চার সন্তানের জননী লিন্ডা রাজেল কর্মস্থলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে তাকে হ*ত্যার দায়ে ২০০৩ সালে তার স্বামী গ্লিন রাজেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। তবে সুদীর্ঘ সময় পার হলেও লিন্ডার লা*শের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি এবং গ্লিন শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন।

প্যারোল বোর্ড ২০১৯ সাল থেকে তিনবার তার মুক্তির আবেদন প্রত্যাখ্যান করলেও চলতি বছরের এপ্রিলে তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে যুক্তরাজ্যের বিচার বিভাগ (এমওজে) মামলাটি হাইকোর্টে পাঠায়। বিচার বিভাগে নিযুক্ত আইনজীবীদের দাবি, গ্লিনের চরম মানসিক ঝুঁকি সঠিকভাবে বিবেচনা না করেই মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আদালতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে লিন্ডার সঙ্গী গ্রেগ ওয়ারাল জানান, মৃত লিন্ডা ও তার পরিবারের ওপর গ্লিন এখনও মনস্তাত্ত্বিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, উপযুক্ত সৎকার করতে না দেওয়ায় পরিবারটি প্রতিদিন চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অপরাধী লা*শের অবস্থান গোপন রাখায় ‘হেলেনস ল’ প্রয়োগের মাধ্যমে মুক্তি বাতিল করার জোর দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, গ্লিন এখন আর সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ নন এবং বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ তার আচরণের ইতিবাচক পরিবর্তনের রিপোর্ট দিয়েছেন। দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে হাইকোর্টের বিচারক জাস্টিস চিমা-গ্রাব জানান, রায় স্থগিত রাখা হয়েছে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

#aknews #onebanglanews #ukcourt #crime #worldnews