গ্রিন পার্টির অগ্রপথিক জন মারজরমের মৃত্যু!

36

সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যের গ্রিন পার্টির দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর জন মারজরম ৮৬ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনি ১৯৮৬ সালে গ্লুচেস্টারশায়ারের স্ট্রাউডে প্রথম নির্বাচিত হন এবং ৩৫ বছর ধরে কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি দেশের প্রথম গ্রিন মেয়র হিসেবে ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেন। পরিবেশ ও শান্তি আন্দোলনের প্রতি তার অবদান স্ট্রাউডের সবুজ রাজনীতিকে শক্তিশালী করেছে।

জন মারজরম ১৯৩৮ সালে পূর্ব লন্ডনের প্লেইস্টোতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এসেক্সের চেলমসফোর্ডে গ্রেট ব্যাডো হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং পরে বার্মিংহামের ফারক্রফট কলেজ ও লিসেস্টারের ন্যাশনাল কলেজ ফর দ্য ট্রেনিং অফ ইয়ুথ লিডার্সে যুব নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ছায়ায় বেড়ে ওঠা জন কোয়েকার হন এবং যুদ্ধবিরোধী হিসেবে শান্তি আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি স্ট্রাউডে শান্তি মিছিলের নেতৃত্ব দেন এবং লন্ডনে জাতীয় শান্তি মিছিলের জন্য বাসের ব্যবস্থা করেন।

১৯৮৬ সালে জন স্ট্রাউড ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলে নির্বাচিত হন, যা গ্রিন পার্টির প্রথম সাফল্যগুলোর একটি ছিল। তার ৩৫ বছরের কাউন্সিলর জীবনে গ্রিন পার্টি লেবার এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি করে। জন পরিকল্পনা কমিটির ভাইস-চেয়ার এবং ১০ বছর স্ট্রাউডের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি স্ট্রাউডের পরিবেশ ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য রক্ষায় কাজ করেন। তিনি বলতেন, “আমি স্ট্রাউডের সুন্দর স্থান ও ভবনগুলো বাঁচাতে চাই।” মেয়র থাকাকালীন তিনি শহরের কেন্দ্রে ‘মেয়র’স বেঞ্চ’ স্থাপন করেন, যেখানে তিনি প্রতি সপ্তাহে বসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন।

জনের রাজনৈতিক কৌশল ছিল অসাধারণ। তিনি অ্যাসোসিয়েশন অফ গ্রিন কাউন্সিলরস (এজিসি) প্রতিষ্ঠা করেন, যা এখন ৮০০-এর বেশি সদস্যের সংগঠন। ২০০০ সালে এজিসি সম্মেলনে তার সঙ্গে পরিচয় হয় অ্যাড্রিয়ান র‍্যামসের, যিনি বলেন, “জন আমার জন্য অনুপ্রেরণা ছিলেন। তার গল্প শুনে আমি কাউন্সিলর হওয়ার পথে এগিয়েছি।” জনের উৎসাহে বর্তমান প্রজন্মের অনেক গ্রিন রাজনীতিবিদ নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। তিনি ২০১০ সালে ফ্রোসেস্টারের হোম ফার্ম ট্রাস্টে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্কদের বাগান শেখানোর কাজ থেকে অবসর নেন, কিন্তু ২০২১ সাল পর্যন্ত রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

২০২১ সালে অসুস্থতার কারণে তিনি কাউন্সিলর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। ২০২৩ সালে তাকে স্ট্রাউডের প্রথম সম্মানসূচক ফ্রিম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তার প্রচেষ্টায় স্ট্রাউডে গ্রিন পার্টি এখন ২৩ জন কাউন্সিলর নিয়ে সংখ্যালঘু প্রশাসন পরিচালনা করছে। জনের দ্বিতীয় স্ত্রী লরা রিডলফি বলেন, “তার উত্তরাধিকার স্ট্রাউডের সবুজ স্থান ও ভবনগুলোতে বেঁচে থাকবে।” তার প্রথম বিবাহ থেকে দুই কন্যা সাসকিয়া, ক্লিও, চার নাতি-নাতনি এবং দুই প্রপৌত্রী রয়েছেন।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian