লক্ষ লক্ষ মানুষ অজান্তেই মারাত্মক লিভার রোগে ভুগছেন!

74

সাইফ হাসান: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সে প্রায় দেড় কোটিরও বেশি মানুষ মারাত্মক ফ্যাটি লিভার রোগে ভুগছেন, কিন্তু তারা এটি জানেন না। এই রোগ, যাকে মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোহেপাটাইটিস (MASH) বলা হয়, লিভারে ফাইব্রোসিস ও সিরোসিস সৃষ্টি করে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ডায়াবেটিস ও স্থূলতার সঙ্গে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা বাড়ানো না হলে এর অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্য ক্ষতি বাড়বে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিতে প্রায় ৩% এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৪% মানুষ MASH-এ ভুগছেন। কিন্তু এই রোগ নির্ণয়ের হার মাত্র ১৮% এর নিচে। ফলে, এই চার দেশে প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ মানুষ এই রোগে ভুগছেন, কিন্তু তারা জানেন না। গবেষকরা বলছেন, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা উচ্চ লিভার এনজাইমযুক্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত স্ক্রিনিং করা উচিত। আগে এই রোগ নির্ণয়ের জন্য বায়োপসি প্রয়োজন হলেও এখন রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড ও এমআরআই স্ক্যানের মাধ্যমে এটি সনাক্ত করা সম্ভব।

গবেষণার প্রধান লেখক ড. জেফরি লাজারাস বলেন, “অনির্ণিত MASH অর্থনীতির জন্য বিলিয়ন পাউন্ডের ক্ষতি করে, কারণ এটি উৎপাদনশীলতা হ্রাস করে এবং স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়। রোগ নির্ণয়ের হার দ্বিগুণ না করলে আগামী ২০ বছরে স্বাস্থ্য ব্যয় তিন গুণ বাড়বে।” লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজের হেপাটোলজি অধ্যাপক এমানুয়েল সোচাটজিস বলেন, “ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে দেড় কোটিরও বেশি মানুষ এই মারাত্মক রোগে ভুগছেন, কিন্তু তারা জানেন না। দ্রুত নির্ণয় ও চিকিৎসা ছাড়া এর ক্ষতি আরও বাড়বে।”

গবেষণায় ওজন কমানোর ইনজেকশন, যেমন ওজেম্পিক বা মাউনজারো, MASH চিকিৎসায় কার্যকর হতে পারে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এনএইচএস টেসাইডের হেপাটোলজিস্ট ড. পল ব্রেনান বলেন, “এই ওষুধগুলো মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণ করে, ক্ষুধা কমায় এবং লিভারে দাগ পড়া রোধ করে।” ফ্যাটি লিভার অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট মাইকেল বেটেল বলেন, “ডায়াবেটিস বা স্থূলতায় আক্রান্ত অনেকেই MASH পরীক্ষা করান না, যা দেরিতে ধরা পড়ে। জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও ওষুধের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।”

একটি পৃথক গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিসের ওষুধ ডাপাগ্লিফ্লোজিন লিভারের ফ্যাট ও ফাইব্রোসিস কমাতে সাহায্য করে। গবেষকরা বলছেন, ২০২২ সালের তুলনায় রোগ নির্ণয়ের হার দ্বিগুণ করতে হবে এবং চিকিৎসা ও সচেতনতা বাড়াতে হবে। এই রোগের প্রভাব কমাতে স্ক্রিনিং ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন জরুরি।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian