সাইফ হাসান: নর্থ্যাম্পটনশায়ারের রাশডেন শহরে স্যান্ডার্স লজ শিল্প এলাকায় বিশাল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কর্তৃপক্ষ মেজর ইনসিডেন্ট ঘোষণা করেছে। শুক্রবার সকাল ৬:৩০ থেকে শুরু হওয়া এই আগুনের কারণে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে জরুরি সেবা কর্মীরা স্থানীয়দের দরজা-জানালা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। নর্থ্যাম্পটনশায়ার ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনটি প্লাস্টিকের বড় মজুত থেকে শুরু হয়েছে এবং এটি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
অগ্নিনির্বাপকরা জানিয়েছেন, তারা ব্যাঙ্ক হলিডে উইকএন্ড পর্যন্ত ঘটনাস্থলে থাকবেন। আগুন লাগা ভবন এবং আশপাশের সব ভবন সম্পূর্ণ খালি করা হয়েছে, এবং ভেতরে থাকা সবাই নিরাপদে বেরিয়ে এসেছেন। নর্থ্যাম্পটনশায়ার ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের এরিয়া ম্যানেজার মিক বেরি বলেন, “এই বড় আগুন স্যান্ডার্স লজ শিল্প এলাকায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।” তিনি জানান, বহু-সংস্থার সিদ্ধান্তে মেজর ইনসিডেন্ট ঘোষণা করা হয়েছিল, তবে শুক্রবার বিকেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে এই স্থিতি প্রত্যাহার করা হয়। তবুও, লোকজনকে এলাকা থেকে দূরে থাকতে এবং দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
বেরি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ধৈর্যের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি এই ঘটনার ব্যবসায়িক ক্ষতির বিষয়টি বোঝেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে কেমব্রিজশায়ার এবং বেডফোর্ডশায়ার থেকে অগ্নিনির্বাপক দল সহায়তা পাঠানো হয়েছিল, যদিও শুক্রবার বিকেলে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস জানায়, তারা নর্থ নর্থ্যাম্পটনশায়ার কাউন্সিল এবং গ্যাস কোম্পানি ক্যাডেন্টের সঙ্গে কাজ করে শিল্প এলাকার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করেছে, যাতে কাছাকাছি প্রায় ৫০০ সম্পত্তির গ্যাস সংযোগ বিঘ্নিত না হয়।
এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায় এবং ব্যবসায়ের উপর বড় প্রভাব ফেলেছে। শিল্প এলাকায় আগুনের ঝুঁকি এবং প্লাস্টিকের মতো দাহ্য পদার্থের মজুত নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে শিল্প এলাকায় আগুনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে, বিশেষ করে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি এবং গুদামে। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশে শিল্প নিরাপত্তা মান বাড়ানো, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া দলের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি করা জরুরি। প্লাস্টিক মজুতের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা এবং নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব। স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় এবং সচেতনতা বৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে শিল্প দুর্ঘটনা রোধে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian














