সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সূর্যের আলো বন্ধের পরীক্ষা শুরু করতে যাচ্ছেন। এই বিতর্কিত প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার জন্য সরকার ৫০ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ করেছে। পরীক্ষাগুলো ছোট আকারে হলেও এর ফলাফল জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাজ্যের সরকারি সংস্থা অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড ইনভেনশন এজেন্সি (আরিয়া) জানিয়েছে, এই পরীক্ষাগুলো কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হবে। আরিয়ার নেতৃত্বে থাকা প্রফেসর মার্ক সাইমসठলেন, “জলবায়ু টিপিং পয়েন্টের হুমকির কারণে এই গবেষণা জরুরি। আমাদের বাস্তব তথ্য প্রয়োজন যা দেখাবে এই প্রযুক্তি কাজ করে কিনা এবং এর প্রভাব কী হতে পারে।” তিনি আরও জানান, কোনো বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করা হবে না এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে।
জিওইঞ্জিনিয়ারিং নামে পরিচিত এই প্রযুক্তি সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছানোর পথে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, যেমন বায়ুমণ্ডলে প্রতিফলিত কণা ছড়ানো বা সমুদ্রের পানির স্প্রে দিয়ে মেঘ উজ্জ্বল করা। এটি সাময়িকভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা কমাতে ারে। তবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে খাদ্য উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর ড. পিট ইরভিন বলেন, “জিওইঞ্জিনিয়ারিং কখনোই নির্গমন কমানোর বিকল্প নয়।” এদিকে, ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট রিসার্চ কাউন্সিল (নার্ক) ১০ মিলিয়ন পাউন্ডের আরেকটি প্রকল্প ঘোষণা করেছে, যা কম্পিউটার মডেলিং ও বিদ্যমান তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গবেষণা করবে। নার্কের পরিচালক কেট হ্যামার বলেন, “আমরা নিরপেক্ষভাবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ করতে চাই।”
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ড. সেবাস্টিয়ান ইস্টহ্যাম বেন, “আমরা আশা করি, এই গবেষণা কিছু প্রযুক্তির সম্ভাবনা বন্ধ করে দেবে এবং আমরা সবচেয়ে কার্যকর ও কম ক্ষতিকর পথে মনোযোগ দিতে পারব।” তবে, এই প্রযুক্তির বড় আকারে ব্যবহার নিয়ে এখনো কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি নেই।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















