সাইফ হাসান: ইংল্যান্ডে মায়ালজিক এনসেফালোমাইলাইটিস (এমই) বা ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোমে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পূর্বের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বলে এক গবেষণায় জানা গেছে। এই গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, দেশটিতে রোগ নির্ণয়ে এলাকাভিত্তিক বৈষম্য বা ‘পোস্টকোড লটারি’ রয়েছে।
গবেষণাটি বিএমসি পাবলিক হেলথ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ইংল্যান্ডের ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের এনএইচএস তথ্য বিশ্লেষণ করে এমই বা পোস্ট-ভাইরাল ফ্যটিগ সিনড্রোমে আক্রান্তদের শনাক্ত করেন। তথ্য বিশ্লেষণ করা হয় লিঙ্গ, বয়স, এবং জাতিগত ভিত্তিতে এবং ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকা অনুযায়ী।
এমই একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ, যার প্রধান লক্ষণ চরম ক্লান্তি, মস্তিষ্কের ধোঁয়াশা, এবং ঘুমের সমস্যা। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো পোস্ট-এক্সারশনাল মালাইজ, যা সামান্য শারীরিক পরিশ্রমের পর উপসর্গের নাটকীয় অবনতি। বর্তমানে এই রোগের কোনো নির্ণায়ক পরীক্ষা বা চিকিৎসা নেই, এবং এর কারণও অজানা।
গবেষণায় দেখা গেছে, ইংল্যান্ডে নারীদের মধ্যে এমই-এর প্রকোপ ০.৯২% এবং পুরুষদের মধ্যে ০.২৫%, যা োট প্রায় ৪ লাখ ৪ হাজার মানুষের সমান। পূর্বে ইউকে বায়োব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হয়েছিল ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ এই রোগে ভুগছেন, যা সুস্থ মানুষের তথ্যের ওপর বেশি নির্ভরশীল ছিল।
গবেষণায় জাতিগত বৈষম্যও প্রকাশ পেয়েছে। শ্বেতাঙ্গরা অন্য জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি এমই নির্ণয় পান। কৃষ্ণাঙ্গ ও এশীয় ব্যক্তিদের নির্ণয়ের হার শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় ৬৫% থেকে ৯০% কম। এছাড়া, এলাকাভিত্তিক বৈষম্যও লক্ষ্য করা গেছে। কর্নওয়াল এবং আইলস অফ সিলি সবচেয়ে বেশি নির্ণয়ের হার দেখিয়েছে, আর উত্তর-পশ্চিম উত্তর-পূর্ব লন্ডন সবচেয়ে কম।
এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমআরসি হিউম্যান জেনেটিক্স ইউনিটের গবেষণা প্রধান প্রফেসর ক্রিস পন্টিং বলেন, “এনএইচ�corrএস তথ্য দেখায়, ইংল্যান্ডে এমই/সিএফএস নির্ণয় পাওয়া আপনার বসবাসের এলাকা এবং জাতিগত পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে। প্রায় ২০০ জিপি প্র্যাকটিসে, যেগুলো বেশিরভাগই দরিদ্র এলাকায়, কোনো এমই রোগী রেকর্ড করা হয়নি।”
এমই রিসার্চ ইউকে-এর পিএইচডি ছাত্রী জেমা স্যামস বলেন, “এমই/সিএফএস নির্ণয় পাওয়া কঠিন। নির্ণয় গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি রোগীদের উপসর্গের বৈধতা দেয় এবং তাদের স্ীকৃতি ও সহায়তা পেতে সহায়ক।”
এমই অ্যাসোসিয়েশনের মেডিকেল উপদেষ্টা ড. চার্লস শেফার্ড বলেন, “এই নতুন গবেষণা প্রমাণ করে যে প্রকৃত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। আমরা এখন আমাদের দাতব্য সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করব, যাতে এই গবেষণার ভিত্তিতে নতুন প্রকোপের সংখ্যা নির্ধারণ করা যায়।”
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















