খুলনা মেডিকেলের ফটক থেকে নবজাতক চুরি

62

ঢাকা সংবাদদাতা: খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফটক থেকে একদিন বয়সী নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অভ্যন্তরের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এম্বুলেন্স চালকদের সঙ্গে প্রসূতির স্বজনদের বাক-বিতন্ডার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চুরি হওয়া ওই নবজাতকের সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় খুলনা মেডিকেল কলেজ এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে দুইজনকে আটক করেছে র‌্যাব-৬।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার পিলজং এলাকা থেকে দিনমজুর তোরাব আলী তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রানী বেগমকে (৩৫) নিয়ে খুমেক হাসপাতালে আসেন। তাকে হাসপাতালে লেবার ওয়ার্ডে ভর্তির পর দুপুর পৌনে ১টার দিকে বাচ্চা প্রসব করেন। সন্ধ্যায় বাচ্চা নিয়ে বাড়ি যাবার জন্য এম্বুলেন্স ঠিক করার সময় তোরাব আলীর সাথে বাক-বিতন্ডা শুরু করে এম্বুলেন্সের দুই গ্রুপ। একপর্যায়ে বাচ্চার স্বজনদের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় বাচ্চাটি তার খালা সোনিয়ার কোলে ছিল।

হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে আহাজারি করে বলেন, ১১ বছর পর আমার ছেলে হয়েছে। ডাক্তার বলেছে আমার আর বাচ্চা হবে না। আমার শরীরে রক্ত কম। আমার বাচ্চাকে আমি কোলে নিতে পারিনি। আপনারা আমার বাচ্চা এনে দেন।

নবজাতকের মামা মোস্তফা জানান, আমার বোন রানি বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে ফকিরহাট উপজেলা থেকে এ্যাম্বুলেন্সযোগে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে নবজাতক জন্ম নিলে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ছাড়পত্র দেয়। গেটের সামনে এসে গাড়ি ভাড়া নিয়ে উজ্জ্বল নামের চালকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ওই চালক গাড়ির চাবি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। উজ্জ্বল ও তার সহযোগী আশিক ও বাবু তার ওপর উত্তেজিত হয়ে মারমুখী আচরণ করে। তাদের সঙ্গে একজন নারীও ছিল। ওই নারী নবজাতককে তার খালা সোনিয়া বেগমের কাছে নিয়ে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যান। ঘটনার পর থেকে হাসপাতাল এলাকায় বাচ্চাটির খোঁজ নিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা ঘটনার সময় সহযোগিতা করেননি বলেও অভিযোগ করেন নবজাতকের মামা। মোস্তফা আরো বলেন, ঘটনার পর থেকে হাসপাতাল এলাকায় বাচ্চাটিকে খোঁজ নিয়েও সন্ধান পাইনি।

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) নাহিদ হাসান মৃধা বলেন, অপহৃত নবজাতকের পরিবার থানায় এসে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তবে র‌্যাব-৬ এর একটি সূত্র জানিয়েছে, অপহৃত নবজাতক উদ্ধারের জন্য র‌্যাব সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। নবজাতক উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।