আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতকে উপেক্ষা করে চাপের মুখে ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশ প্রত্যাখ্যান করলেও অবশেষে ভারতের ইসলামি চিন্তাবিদ ও তুখোড় বক্তা জাকির নায়েকের ঠাঁই হলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালয়েশিয়ায়। বৃহস্পতিবার এমন তথ্য দিয়ে খবর প্রকাশ করে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
গত মাসের ঘটনা। মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ার ঐতিহ্যবাহী পুত্র মসজিদ থেকে জাকির নায়েক বেরিয়ে আসছিলেন। একজন দেহরক্ষী ছিলেন তার সঙ্গে। সেদেশে এভাবে সবার সামনে আসার বিরল ঘটনা এটি। তখন তার চারপাশে ভিড় জমায় অসংখ্য মানুষ। তার সঙ্গে কুশল
বিনিময় ও সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে সবাই। ওই মসজিদে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রায়ই নামাজ আদায় করেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের এক খবরে বলা হয়েছে, ব্রিটেন প্রত্যাখ্যান করলেও জাকির নায়েককে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দিয়েছে মালয়েশিয়া এবং সেদেশর সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে তার।
ভারতের হিন্দুবাদী সরকার ইসলামের উগ্র মতবাদ ছড়িয়ে জঙ্গি কার্যক্রমে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করার অভিযোগে ভারতে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করে। এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে নিজ দেশ ভারত ছেড়ে যান তিনি। ব্রিটেনে আশ্রয় পাননি তিনি। পরে মালয়েশিয়া আসেন এবং গত মাসে দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পান জাকির নায়েক।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের অধীনে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশটিতে ইসলামের রাজনীতিকরণ বাড়ছে, বিশেষ করে ২০১৩ সালে তার দলের পরাজয় এবং ক্ষমতাসীন জোটের বাজে অবস্থানের পর থেকে। সেই থেকে তার ক্ষমতাসীন দল স্থানীয় রক্ষণশীল মালয়-মুসলিম ঘাঁটিতে আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে এবং ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে ধর্মই হয়ে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মোক্ষম হাতিয়ার।
পেশায় চিকিৎসক ৫২ বছরের জাকির নায়েক বিশুদ্ধ ইসলামের এক নতুন ব্র্যান্ড দাঁড়া করানোর চেষ্টা করেন।
ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) গত সপ্তাহে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রস্তুত করেছেন। এতে বলা হয়েছে, ‘প্রকাশ্য বক্তব্য ও উপদেশের মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণা ছড়িয়েছেন তিনি।’পিস টিভি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জাকির নায়েক তার বক্তব্য ও মতামত প্রচার করতেন।















