পদ্মা সেতু হুবহু নকল!

174

নিউজ ডেস্ক: পদ্মা সেতুর আগেই তৈরী পদ্মা সেতুর হুবহু নকশা ভারতের আসামেও। নাম বগিবিল সেতু। পদ্মা ও বগিবিল সেতু দেখতে অনেকটা এক।

আসামের ডিব্রুগড়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর তৈরি করা হয়েছে সেতুটি। এটি দেশটির দীর্ঘতম দোতলা সেতু। এর দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার। সেতুটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৫ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে সেতুটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে অনুযায়ী, সেতুটিতে কোনো নাট-বল্টু ব্যবহার করা হয়নি সেতুর স্টিলের কাঠামোটি তৈরি করতে। পুরোটাই ওয়েল্ডিংয়ের ওপর দাঁড়িয়ে। যা ভারতে মধ্যে প্রথম।

১৯৯৭ সালে বগিবিল সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া। ২০০২ সালে রেলের ছাড়পত্র পাওয়ার পরই নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২১ বছর সময় লেগেছে সেতুটি তৈরি করতে।

আধুনিক স্থাপত্য ও প্রযুক্তির মিশেলে ব্রহ্মপুত্রের ওপর তৈরি করা হয়েছে বগিবিল সেতু। দোতলা এই সেতুর উপরের তলা দিয়ে চলে বাস, লরি, ট্রাক ইত্যাদি যানবাহন। আর নীচ দিয়ে চলে ট্রেন।

যান চলাচলের জন্য বগিবিল সেতুতে তিনটি লেন রয়েছে। আর ট্রেন চলাচলের জন্য রয়েছে ডাবল লাইন।

আসামের ডিব্রুগড় জেলার সঙ্গে ধেমাজি জেলার সংযোগ স্থাপন করেছে এই বগিবিল সেতু। এই সেতুর কারণে দুই জেলার মধ্যে রেলপথে দূরত্ব ৫০০ কিলোমিটার থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০০ কিলোমিটার। রেল সফরের সময়ও কমেছে প্রায় ১০ ঘণ্টা।

দীর্ঘায়ুর জন্য সেতুটিতে ইলেকট্রিক আর্ক ওয়েল্ডিং টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে। ১২০ জন ইঞ্জিনিয়ার ও ৩০০ ইউরো-সার্টিফায়েড ওয়েল্ডারের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই বগিবিল।

রিখটার স্কেলে ৭ তীব্রতার ভূমিকম্প সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে সেতুটির। আসামে ব্রহ্মপুত্রের ওপর এটি চতুর্থ রেল-রোড সেতু। আসাম-অরুণাচল সীমান্ত থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে এই সেতু।

সীমান্তের খুব কাছাকাছি হওয়ায় অবস্থানগত দিক থেকে এর গুরুত্ব অপরিসীম। ভারত-চীন সীমান্ত সেনা সরঞ্জামও আসামে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।