জাকির হোসেন কয়েছ: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর ভয়াবহ হামলার পর যুক্তরাজ্যের মসজিদগুলোতে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় বিশেষ নিরাপত্তাদেয় পুলিশ। বিভিন্ন মসজিদ পরিদর্শন করেছেন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ, মেয়র, এমপিসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা।
শুক্রবার ইস্ট লন্ডন মসজিদে নামাজ পড়েন লন্ডন মেয়র সাদিক খান। নামাজের পরে তিনি মসজিদের সেমিনার হলে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। পরে মসজিদের বাইরে মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার সামনে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং নিহতদের পরিবারবর্গের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, আমরা নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টাচার্চ থেকে ১১০০ মাইল দূরে থাকলেও হৃদয়ে তাদের অনুভুতি অনুভব করছি। সন্ত্রাসীদের ঘৃনা করছি। তিনি মুসলিম সম্প্রদায়কে শান্ত থাকার আহবান জানান এবং মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে বলেন। তিনি বলেন আগামী কয়েকটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো বৃদ্ধি করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা ক্রাইস্টাচার্চের জনগনের সাথে একাত্মতার দেখাচ্ছি। এবং আমরা বিশ্ববাসী দেখাতে চাই লন্ডনে আমরা খ্রিস্টান, ইহুদি, মুসলিম, বৌদ্ধ, হিন্দু, শিখ, ধর্মে অবিশ্বাসীরাও একাবদ্ধ। এখানে যেকাউকে স্বাগত জানাই। লন্ডন সবার জন্য উন্মোক্ত।
ইস্ট লন্ডনের মসজিদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও ডায়রেক্টর দেলোয়ার খানের পরিচালনায় সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ মাহমুদ।
বেথনালগ্রী এন্ড বো আসনের এমপি রোশনারা আলী, এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি এজন্য বর্ণবাদী দল মতবাবেদ বিকাশের বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়ার আহবান জানান। তিনি বলেন, এদেশে প্রতিনিয়ত মুসলিম সম্প্রদায় বর্ণবাদীদের আক্রমনের শিকার হচ্ছে। কোন ধরনের বর্ণবাদী আক্রমন, বর্ণবিদ্বেষের শিকার হলে পুলিশে রিপোর্ট করার আহবান জানান রুশনারা আলী।
তিনি বলেন, আমরা রাজনৈতিক ভাবে ও কমিউনিটি পর্যায়ে, স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই বর্ণবিদ্বেশের শিকার হচ্ছি। এটি বন্ধ করতে হবে, সবাইকে সচেতন হতে হবে।
এসময় টাওয়ার হ্যামলেটস পুলিশের কমান্ডার সো উইলিয়াম বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় বিশেষ করে মসজিদগুলিতে নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হবে। তিনি কোন ধরেন হেইট ক্রাইম হলে সাথে সাথে পুলিশে রিপোর্ট করার আহবান জানান।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র জনবিগস বলেন, আমি এখানে সহর্মমিতা প্রকাশ করতে এসেছি। টাওয়ার হ্যামলেটসে বহু ধর্মবর্ণের লোকের বসবাস। এখানে বর্ণবাদের কোন স্থান হবে না।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিশপ অফ লন্ডন সারাহ মুলালি, মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের সেক্রেটারী জেনারেল
আলোচনা সভা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা শেখ আব্দুল কাইয়ুম।















