পুলিশের হাতে ছেলের আটকের খবরে মায়ের মৃত্যু

789

ঢাকা সংবাদদাতা: ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় পুলিশের হাতে ছেলেকে আটকের খবর পেয়ে খোদেজা খাতুন ওরফে চিনিমা (৪০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফুলবাড়িয়া উপজেলায় এই ঘটনা ঘটে।

খোদেজা উপজেলার পুটিজানা গ্রামের বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী।

নিহতের একমাত্র ছেলে চান মিয়া চানু, স্বজন ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানায়, ঈদের পরের দিন মঙ্গলবার রাতে পুটিজানা গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে জুয়ার বোর্ড বসান আওয়ামী লীগ নেতা নজম আলী নম নামের এক ব্যক্তি। সেখানে জুয়া খেলায় জিতে যান এক ব্যক্তি। জুয়ায় হেরে গিয়ে ক্ষিপ্ত হন নজম ও তাঁর সহযোগীরা তার কাছ থেকে সব টাকা কেড়ে নেয়। পরে বিষয়টি শ্যালক চানুকে জাননোর পর তিনি গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে নজমের কাছে প্রতিবাদ জানান। এ সময় নজমসহ ৮-১০ সহযোগী চানুকে বেদম মারপিট করে আহত করেন। আবার আওয়ামী লীগ নেতা নজমই ফুলবাড়িয়া থানায় ফোন করে চানুকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়।
পুলিশের হাতে ছেলে আটকের কথা শুনে রাতেই স্ট্রোক করে অজ্ঞান হয়ে পড়েন চানুর মা চিনিমা। এরপর আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর তাঁকে ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় তাঁর।
চানু বলেন, ‘ আজ মার মৃত্যুর খবর হুইন্নে পুলিশ আমারে ছাইড়ে দিসে। আমি এর বিচার চাই।’

এ বিষয়ে খোদেজার মামাশ্বশুর সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, ‘নজম আলী এলাকায় জুয়ার বোর্ড চালায় এবং নিজেও একজন জুয়াড়ি। তিনি আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক। বুধবার রাতে আনিসুরের শ্যালক চান মিয়া ঘটনার প্রতিবাদ জানালে তাঁকে বেদম মারপিট করে নজম ও তাঁর আট থেকে দশ সহযোগী। একপর্যায়ে নজমকে একটি ঘুষি মারেন চান মিয়া।’ শফিক জানান, ঘুষি খাওয়ার পর চানকে অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ী উল্লেখ করে আটক করার জন্য পুলিশকে ফোন করেন নজম। ফোন পেয়ে এসআই আরিফ ঘটনাস্থলে গিয়ে চানুর দেহ তল্লাশি করে কিছু না পেলেও তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।

সেনাবাহিনীর এই সার্জেন্ট জানান, ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম রফিক রাতেই থানায় যান চানুকে ছাড়াতে। তখন এসআই আরিফ বলেন, ‘নজমের সাথে মিটমাট করেন, তাহলে চানুকে ছেড়ে দেব এর আগে নয়।’ রাত ২টা পর্যন্ত দরবার করে ব্যর্থ হয়ে রফিক বাড়ি ফিরে যান। এরপর কাল স্ট্রোক করা চানুর মা খোদেজাকে আজ দুপুরের আগে হাসপাতালে আনার পথে মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ কবীরুল ইসলাম বলেন, ‘জুয়ার ঘটনা জানি না। পুটিজানা ইউনিয়ন (১ নম্বর ওয়ার্ড) আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি নজম আলীকে মারধর করায় তাঁকে (চানু) জনগণ আটক করে পুলিশে খবর দেয়। মারামারির ঘটনায় পুলিশ গিয়ে তাকে নিয়ে আসে। আজ সকালে দুই পক্ষ মিটমাট হওয়ায় চানুকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

মারামারির ঘটনায় শুধু চানু আটক কেন জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান ওসি কবীরুল।

এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আতাউল্লাহ বলেন, দুপুর ১২টার দিকে মৃত অবস্থায় খোদেজা খাতুন ওরফে চিনিমাকে হাসপাতালে আনা হয়।