ঢাকা সংবাদদাতা: জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিচার বিশেষ ব্যবস্থায় কেন করা যাবে না সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
বুধবার বিকেলে রাজধানী ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সাথে আয়োজিত যৌথসভায় তিনি এমন প্রশ্ন তোলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, জেলে বিশেষ ব্যবস্থা করে বিচার করা যাবে না। এটা কি সংবিধানের কোথায়ও আছে? আর এতে মির্জা ফখরুল সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন কী কারণে বলেছেন? সংবিধানের কোথায় লেখা আছে যে এই ধরনের আদালত বসতে পারবে না?
তিনি বলেন, কারাগারের মধ্যে আদালত বসানোর প্রথা চালু করেছেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। তিনিই কর্নেল তাহেরকে জেলে আদালত বসিয়ে ফাঁসি দিয়েছিলেন। এটা কি ভুলে গেছে বিএনপি? কীভাবে কর্নেল তাহেরর ফাঁসি হয়েছিল? কোথায় হয়ছিল? এটা সংবিধানের কোথাও লেখা নেই যে জেলের মধ্যে বিশেষ প্রয়োজনে বিশেষ আদালতের ব্যবস্থা করা যাবেনা।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম জিয়ার বয়স বিবেচনায় কারাগারে আদালত বসানো হয়েছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, বয়স বিবেচনায় তার পক্ষে সব সময় আদালতে আসা-যাওয়া কষ্টকর। জিয়া চ্যারিটেবলের মামলায় তো তিনি হাজিরাই দিচ্ছিলেন না। এমতাবস্থায় তাকে হাজিরা দেয়ার সুবিধা করে দেয়ায় কারণ হিসাবে বলা হয় অসুস্থ। কিন্তু অসুস্থ হলেও তো মামলা চলবেই।
তিনি বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা ১০ বছর বিলম্বিত করেছে, প্রলম্বিত করেছে। এই মামলা অনেক আগেই সেটেল হয়ে যেত, এখানে সরকারের কোনো দায় নেই।
সরকার এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়েছিল। কিন্ত বিএনপির আইনজীবীরা, তারা বেগম জিয়া কেসটা ১০ বছর ধরে চালিয়েছে।
জিয়া চ্যারিটেবল মামলা বিলম্বিত করার অপচেষ্টা হচ্ছে দাবি করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট যে মামলা, এই মামলা নানা কৌশলে বিঘ্নিত করার জন্য অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।
কিন্তু বিচারকার্য কারো জন্য তো থেমে থাকবে না। বিচার কার্যের সুবিধার জন্য বেগম জিয়া আদালতে যান না, কাজেই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এখন আর যেতে অসুবিধা হবে না।
যৌথ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ডা. দিপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাওসার, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুন, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার প্রমুখ।















