হজ পালনে শীর্ষে ইন্দোনেশিয়া, চতুর্থ বাংলাদেশ

639

ঢাকা সংবাদদাতা: শুরু হয়ে গেছে মুসলমানদের পবিত্র হজ। বরাবরের মত এবারও হজের করতে সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে জড়ো হয়েছেন ২০ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ হজযাত্রী। রোববার মিনা উপত্যকায় জড়ো হন মুসল্লিরা। এখানে সমবেত হওয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছে পবিত্র হজ পালনের আনুষ্ঠানিকতা। রোববার সারাদিন ও রাত তারা মিনায় কাটান, ইবাদত-বন্দেগী করে। সেখান থেকে সোমবার সকালে তারা আরাফাত ময়দানে যান। লাব্বাইক লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত হয়েছে গোটা আরাফাত ময়দান।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় এখন বিমানে করেই হজে যান বেশিরভাগ মুসলিম। গতবছর ৯৪ ভাগ হাজিই বিমানে করে মক্কায় গিয়েছিলেন। মাত্র ৫ ভাগ গিয়েছিলেন স্থলপথে এবং সাগর পথে হজে গিয়েছিলেন মাত্র একভাগ।

জাতি, বর্ণ নির্বিশেষে আর্থিক ও স্বাস্থ্যগতভাবে সক্ষম বিশ্বের সকল মুসলিমের ওপর জীবনে অন্তত একবার হজ করা ফরজ। তবে চাইলেই সবাই হজ করতে পারবেন এমন নয়। এজন্য প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য একটা কোটা বেঁধে দেয় সৌদি সরকার। প্রতিটি দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যানুপাতে ওই কোটা নির্দিষ্ট হয়ে থাকে।

গত দুই দশক ধরে (১৯৯৫ থেকে ২০১৫ সাল) হজযাত্রীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ১৯৯৫ সালে হজযাত্রীদের সংখ্যা ছিল মোট ১৮ লাখ। ২০১২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩১ লাখে। কিন্তু মক্কা ও মদীনার সম্প্রসারণ কাজের জন্য ২০১৩ সাল থেকে এই সংখ্যা কমছে। ওই সম্প্রসারণ কাজ ২০১০ সাল নাগাদ সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।

শীর্ষে ইন্দোনেশিয়া, চতুর্থ বাংলাদেশ

মক্কায় যত মানুষ হজ করতে যান তাদের এক তৃতীয়াংশ আসেন সৌদি আরব থেকে। বাকি দুই ভাগ বিশ্বের অন্যান্য দেশের।

২০১৭ সালের এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, ইন্দোনেশিয়া থেকেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ হজ করতে আসেন, এই সংখ্যা ২ লাখ ২১ হাজার। এটি হাজিদের মোট সংখ্যার ৯ ভাগ। এরপর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তান; ১ লাখ ৭৯ হাজার ২১০ জন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত; ১ লাখ ৭০ হাজার।

চতুর্থ স্থানে ছিল বাংলাদেশ। গতবছর এখান থেকে হজে গিয়েছিলেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৮ জন মুসলিম।

এরপররেই ছিল মিশর (১ লাখ ৮ হাজার), ইরান (৮৬ হাজার ৫শ), নাইজেরিয়া (৭৯ হাজার), তুরস্ক (৭৯ হাজার), আলজেরিয়া (৩৬ হাজার) ও মরক্কো (৩১ হাজার)।

এছাড়া বাকি অন্যান্য দেশ থেকে হজে আগতদের মোট সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৩৫ হাজার ১০৬ জন। এই সংখ্যা মোট হাজির শতকরা ২৭ ভাগ। আর খোদ সৌদি আরব থেকে হজ করেছিলেন ৬ লাখ ১০৮ জন, যা মোট হাজিদের ২৬ ভাগ।

যেভাবে মক্কায় প্রবেশ

দুটি বিমানবন্দর দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করে থাকেন হাজিরা। বেশিরভাগেই এসে থাকেন জেদ্দা হয়ে, মক্কা থেকে যার দূরত্ব মাত্র ৮০ কিলোমিটার। ফলে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর এটি। আরেক দল আসেন মদীনা নগরী থেকে। তারা মজজিদ উন নবী সফর করেই মক্কায় এসে থাকেন। মক্কা থেকে মদীনার দূরত্ব সাড়ে ৪শ কিলোমিটার।

হজের সময়কাল ৫/৬ দিন হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছানোর জন্য সবাই আগেভাগেই মক্কায় এসে থাকেন। ফলে হজ প্যাকেজে সবচে দীর্ঘ সফরে ৪০ দিন এবং সবচে স্বল্প সফরে ৫ থেকে ৬ দিন লেগে যায়।

সূত্র: আল জাজিরা